বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার দায়িত্বে থাকা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ইয়াসির আরাফাত এবং মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়াসহ জেলা পুলিশের আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

অমর সরকার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিই চাঁদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অনিকের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানায়। তাঁর বাবার নাম অর্জুন বিশ্বাস। হৃদয় সূত্রধরের বাড়ি মতলব দক্ষিণ উপজেলার সারপাড় এলাকায়। তাঁর বাবার নাম গোপাল সূত্রধর। পুলিশ সুপার বলেন, অমর সরকার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামি অনিক গতকাল চাঁদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অপর আসামি হৃদয় সূত্রধরকেও আজ আদালতে হাজির করা হলে তিনিও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, অনিক ও হৃদয় পূর্বপরিচিত। তাঁরা আইপিএল ও বিগ ব্যাশের খেলায় বাজি ধরতেন। বাজিতে হেরে যাওয়ায় অনেক টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন তাঁরা। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে প্রায় এক মাস আগে তাঁরা ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে খুন করে স্বর্ণালংকার ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। গত সোমবার দিবাগত গভীর রাতে দোকান থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে উপজেলার সারপাড় গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে নির্জন স্থানে ধারালো ছুরি দিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা করেন অনিক ও হৃদয়। পরে ব্যবসায়ীর সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার ও টাকা ছিনিয়ে নেন।

default-image

ছিনিয়ে নেওয়া স্বর্ণালংকার ও টাকা দূরবর্তী একটি খালে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি নারায়ণপুর বাজারের গণশৌচাগারে লুকিয়ে রাখেন। নিজেকে সন্দেহের বাইরে রাখতে সোমবার দিবাগত রাত তিনটা থেকে চারটার মধ্যে অনিক নিহত অমর সরকারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা রবি ভক্তকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন এবং তাঁর ছেলেকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে তাঁকেও (অনিক) মুখ চেপে অজ্ঞান করে ফেলে রাখে বলে জানান।

এএসপি ইয়াসির আরাফাত বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে অমর সরকারের বাবা রবি ভক্ত অনিক ও হৃদয় সূত্রধরকে আসামি করে মতলব দক্ষিণ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। অনিককে মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। পরে ওই হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বুধবার চাঁদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। বুধবার ওই মামলার আরেক আসামি হৃদয় সূত্রধরকে উপজেলার নারায়ণপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইয়াসির আরাফাত আরও বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের কাছ থেকে ৪০ ভরি সোনা, ১৮ হাজার ২০০ টাকা, দুটি টাকা রাখার থলে, হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো ছুরি, দুটি রক্তমাখা হ্যান্ড গ্লাভস ও অন্যান্য উপকরণ উদ্ধার করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন