বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্বাধীনতার পরও কেন হুমাইপুরে আওয়ামী লীগ সুবিধা করতে পারেনি, তা নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার কথা হয় এই ইউনিয়নের নানা শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে।

বাজিতপুরের ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে হুমাইপুর নদী–অধ্যুষিত। জনপদটি অনেকটা বিচ্ছিন্ন। বাসিন্দাদের জীবন ও জীবিকা কৃষি ও মাছ শিকার। ভোটার প্রায় ৯ হাজার। পুরো ইউনিয়নে একটিমাত্র জামে মসজিদ। কবরস্থানও একটি। মসজিদ ও কবরস্থান দুটিই মোনেম খানের সময়কার। ফলে এই ইউনিয়নে তাঁর পরিবারের প্রভাব এখনো আছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, স্বাধীনতার আগে হুমাইপুরে কেউ আওয়ামী লীগের পরিচয় দিতেন না। ইউনিয়নটির পঞ্চায়েত বাড়ির ইসমাইল মৌলভীর হাত ধরে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠিত হয়। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহযোগিতায় ইসমাইল মৌলভী ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বর্তমানে তাঁর ছেলে আরিফুজ্জামান আছেন ওই দায়িত্বে। স্বাধীনতার আগ থেকে এখন পর্যন্ত দলের নেতৃত্ব পঞ্চায়েত বাড়ি থেকে দেওয়া হয়।

বিভিন্ন সময়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন পঞ্চায়েত বাড়ির কেউ না কেউ। এবারের নির্বাচনে জয়ী রফিকুল ইসলামও এই বাড়ির সন্তান। তিনি আগে দুবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। বিপরীতে বেশির ভাগ সময় চেয়ারম্যান পদে জয় এসেছে মোনেম খানের বংশধরদের মধ্যে থেকে। পরবর্তী সময়ে অন্যরা জয় পেলেও খান বাড়ির সমর্থন ছিল বলে জানান স্থানীয় লোকজন।

বর্তমানে খান বাড়ির নেতৃত্বে আছেন মোনেম খানের নাতি কাইয়ুম খান। এলাকায় তাঁদের প্রভাব নিয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমরা যেদিকে যাই, জনগণও সেদিকেই যায়। এটি আমাদের প্রতি এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস।’

বিজয়ী চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, নৌকার জয় আনতে গিয়ে ১৯৭৪ সালে তাঁর বাবা নুরুল হুদাসহ পাঁচজনের প্রাণ যায়। এবারের জয়ের পর তাঁদের কথাই বেশি মনে হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ আফজাল হোসেন বলেন, বাজিতপুরে এখন আওয়ামী লীগের প্রভাব। কেবল হুমাইপুর এর বাইরে ছিল। এ কারণে হুমাইপুরে জয়টি বিশেষ কিছু।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন