অভিযুক্ত নেতা-কর্মীরা হলেন জোহা হল ছাত্রলীগের সভাপতি চিরন্তন চন্দ ও তাঁর অনুসারী ওয়াহিদ, সাধারণ সম্পাদক মো. মোমিন ইসলাম ও তাঁর অনুসারী তুষার, মিনাল ও আলামিন। তাঁদের সঙ্গে অন্যান্য হলের বেশ কয়েকজন ছিলেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন হলে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

হল সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য এক বেলা বিশেষ খাবারের বরাদ্দ দেয় কর্তৃপক্ষ। এ জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৩০ টাকার বিনিময়ে টোকেন সংগ্রহ করতে বলা হয়। আজ দুপুর ১২টা থেকে হলের ডাইনিং কর্মচারীরা টোকেন জমা নিয়ে সেই খাবার পরিবেশন শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পর ছাত্রলীগের চিরন্তন চন্দ ও মোমিনসহ অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মী বিনা টোকেনে সেখানে খাবার নিতে যান। এ সময় উপস্থিত হল প্রশাসন তাঁদের নিষেধ করলেও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তাঁরা খাবার নিয়ে চলে যান। তাঁরা প্রত্যেকেই ৫-৬টি করে প্যাকেট নিয়ে যান বলে হল কর্তৃপক্ষ জানায়। জোহা হলে মোট ৪৩০ জন আবাসিক শিক্ষার্থী থাকেন। এ জন্য আবাসিক শিক্ষার্থী ও হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোট ৫০০ প্যাকেট খাবার তৈরি করা হয়েছিল। তবে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের এমন কাণ্ডে খাবারে ঘাটতি দেখা দেয়।

এ বিষয়ে জানতে সাধারণ সম্পাদক মো. মোমিন ইসলামকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। তবে হল কমিটির সভাপতি চিরন্তন চন্দ প্রথম আলোকে বলেন, ‘হলের প্রাধ্যক্ষ স্যার ছাত্রলীগের সবার খাবার একসঙ্গে দেবেন বলে আমরা সেখানে যাই। তবে আমি ডাইনিংয়ে খুব অল্প সময় থাকার পরে চলে আসি। আমাদের আসার পর হলের অনেকে নাম ভাঙিয়ে খাবার নিতে পারেন। সে বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারছি না। আমরা বেশি প্যাকেট নিইনি।’

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক একরামুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের প্রায় ২০ জন এসে টোকেন না দিয়েই একেকজন ৫-৬টা করে প্যাকেট নিয়ে যায়। আমরা বারবার নিষেধ, অনুরোধ করলেও শোনেনি। পরে সংরক্ষিত অতিরিক্ত খাবার থেকে ও হোটেল থেকে খাবার এনে শিক্ষার্থীদের দিয়েছি।’ তিনি বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিষয়টি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও বিষয়টি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওই হলের ছাত্রলীগের কর্মীরা কুপন দেখিয়েই খাবার নিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন