default-image

মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় ২০ জন হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। তাঁদের আধাপাকা ঘর দিয়ে কর্মসংস্থানের জন্য দেওয়া হয়েছে গবাদিপশু ও সেলাই মেশিন।

সিরাজগঞ্জ জেলার অগ্রগামী সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার তথ্যমতে, জেলায় হিজড়া আছেন ৬৫০ জন। জেলার ৯টি উপজেলায় তাঁদের বসবাস। এর মধ্য থেকে কেবল ২০ জনকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। গত সপ্তাহে আধাপাকা ঘরগুলো তাঁদের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে তাঁরা সেখানে বসবাস করেছেন।

সোমবার দুপুরে জেলার উল্লাপাড়ায় হাটিকুমরুল ইউনিয়নের সরস্বতী নদীর পাড়ে আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখে জানা যায়, আধাপাকা (পাকা দেয়াল ওপরে টিনশেড) ঘরে তাঁরা বসবাস করছেন। দুপুরের রান্না করছেন কেউ কেউ। তাঁরা গবাদিপশু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালন করছেন। শাকসবজিও চাষ শুরু করেছেন দু-একজন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে তাঁরা বেশ উচ্ছ্বসিত।

বিজ্ঞাপন
default-image

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফারুক আহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, নিরাপদ আশ্রয় মেলায় এখন অনেকটাই স্বস্তিতে তৃতীয় লিঙ্গের এসব মানুষ। নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিতে নিজেরাই এখন তৈরি করছেন নিজেদের। সরকারের উদ্যোগকে স্থায়ী রূপ দিতে জেলায় আরও যেসব তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ আছেন, তাঁদেরও এমন প্রকল্পের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সদ্য পুনর্বাসিত হওয়া কয়েকজন হিজড়া জানালেন, এখন নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা। একসময় পরিবার ও সমাজের মানুষের অবহেলা সইতে হয়েছে। অবজ্ঞা ও নির্যাতনের কারণে বাঁচার ইচ্ছা হতো না। তবে এখন নতুন স্বাভাবিক জীবন পেয়ে তাঁরা ভালো আছেন।

হিজড়া আলো বলেন, ‘আমাদের মা–বাবা, পরিবার ও সমাজের লোক যেটুকু ভালো না বাসত, তার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভালোবাসেন। সন্তানের মতো কোলে তুলে নিয়েছেন। তাঁকে দোয়া করি, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘজীবী হোন। ঘরে ঘরে আমাদের মতো অসহায়ের সহায় হোন।’

default-image

সমাজে হিজড়ারা বঞ্চিত ও অবহেলিত বলে জানান অগ্রগামী সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি উমর ফারুক হিজড়া। তিনি বলেন, মাত্র ২০ হিজড়াকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব হিজড়াকে পুনর্বাসনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকারের হিসাব অনুযায়ী—সারা দেশে ১১ হাজার হিজড়া আছেন। তাঁদের পুনর্বাসনের কাজ চলমান। সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে আমরা ২০ জন হিজড়াকে পুনর্বাসন করেছি। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তাঁদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনে জীবনমান উন্নত করার সব ব্যবস্থা করা হবে।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন