default-image

জয়পুরহাট শহরের রুপনগর এলাকার বাসিন্দা শেফালি বেওয়ার (৬৫) মারা যাওয়ার ১২ দিন পর আজ বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় কবর থেকে তাঁর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোশারফ হোসাইনের উপস্থিতিতে জয়পুরহাট শহরের বুলুপাড়া গুচ্ছগ্রামের কবরস্থান থেকে জয়পুরহাট সদর থানা–পুলিশ লাশটি তুলে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

১৩ মার্চ রাতে শেফালি বেওয়া মারা যান। তাঁর বাড়ির ভাড়াটিয়া ঝর্ণা আখতার স্বজনদের জানিয়েছিলেন, তিনি মস্তিষ্কে রক্তরক্ষণে মারা গেছেন। স্বাভাবিক মৃত্যু ভেবে স্বজনেরা তাঁর দাফন করেন। এই ঘটনার দুই দিন পর শেফালির স্বজনেরা জানতে পারেন, তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। ৩০ হাজার টাকা নিতে বাধা দেওয়ায় শেফালি বেওয়াকে তাঁর ভাড়াটিয়া ঝর্ণা আখতার হত্যা করেন।

এ ঘটনায় নিহত শেফালির ভাই জালাল শেখ বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার জয়পুরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ মামলার একমাত্র আসামি ঝর্ণা আখতারকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শেফালি বেওয়ার হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে থানার পরির্দশক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শেফালি বেওয়া তাঁর বাড়িতে একা বসবাস করতেন। প্রায় এক বছর আগে ঝর্ণা আখতার তাঁর বাড়ি ভাড়া নেন। ঝর্ণা জর্ডান যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। তিনি বিভিন্ন সময় বাড়ির মালিক শেফালির কাছে টাকা চাইতেন। ১৩ মার্চ শেফালি তাঁর গরু বিক্রির জন্য পাইকারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা বায়না নেন। ঝর্ণা ওই টাকা নেওয়ার জন্য শেফালিকে হত্যা করেন। পরের দিন ঝর্ণা ফোন করে শেফালির স্বজনদের জানান যে তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। পরে ঝর্ণা একেকবার একেক তথ্য দিলে স্বজনদের সন্দেহ হয়। তখন তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।

শেফালি বেওয়ার ভাই জালাল শেখ বলেন, প্রকৃত ঘটনা জানার পর তিনি মামলা করেন।

জয়পুরহাট সদর থানার পরির্দশক হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, হত্যা মামলার পর গত মঙ্গলবার সকালে ঝর্ণাকে তাঁর ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর কাছ থেকে শেফালির ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন