default-image

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর এস আর আদর্শ স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রুমানকে (৮) ‘অপহরণ’-এর তিন দিন পর ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি এ অপহরণের পেছনে এক সাজানো চিত্রনাট্যের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।

গত সোমবার শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগে অপহৃত রুমানের মা রুনা আক্তার মঙ্গলবার বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। পাশাপাশি অপহরণকারীরা মুক্তিপণ চেয়ে হুমকি দিচ্ছেন বলা হয়।

কিন্তু পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, অপহৃত রুমানের বাবা মালয়েশিয়াপ্রবাসী নাসির মিয়ার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে রুমানের মা রুনা আক্তার রুমানকে নিজেই অপহরণ করেন। মিথ্যা অপহরণের মামলা দায়েরের ঘটনায় রুমানের মা রুনা আক্তার, ফুপা স্বপন মিয়া, খালা নাসরিন আক্তার ও মামি নুসরাত জাহান লাকীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মিথ্যা অপহরণের মামলা দায়েরের ঘটনায় শিশুটির মা রুনা আক্তার, ফুপা স্বপন মিয়া, খালা নাসরিন আক্তার ও মামি নুসরাত জাহান লাকীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

দাউদকান্দি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হারুনুর রশিদ বলেন, গত সোমবার সকালে অপহরণের পর অপহৃত রুমানকে প্রথমে রুমানের ফুপা দাউদকান্দির চক্রতলা গ্রামে স্বপন মিয়ার বাড়িতে রাখা হয়। পরদিন মঙ্গলবার রোমানের মা রুনা আক্তার বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন এবং মুক্তিপণ চাওয়ার কথাও পুলিশকে অবহিত করেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ মুক্তিপণ চাওয়া মুঠোফোন ও রুমানের মায়ের মুঠোফোনের সূত্র ধরে অভিযান চালায়। পুলিশের অভিযান আঁচ করতে পেরে গতকাল বুধবার রুমানকে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে রুমানের খালার বাড়িতে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশ পরবর্তী সময়ে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং এলাকায়ও অভিযান চালায়। পুলিশের অভিযান আঁচ করতে পেরে আজ সকালে রুমানকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ আজ সকালে আবার অভিযান চালিয়ে রুমানকে যাত্রাবাড়ীর আপন বাস কাউন্টার এলাকা থেকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় রুনার বিরুদ্ধে স্বামীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ছেলেকে লুকিয়ে রেখে অপহরণ মামলা দায়েরের অভিযোগ আনা হয়েছে। সহযোগী হিসেবে আসামি করা হয়েছে আরও তিনজনকে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন