এ নিয়ে প্রথম আলোকে নাসরিন সুলতানা বলেছেন, ‘আমার সাহেব (শহিদুল ইসলাম) চিন্তাভাবনা করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনিও এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। এলাকার মানুষের ভালোমন্দ তিনিও বোঝেন।’

প্রাচীর কেন নির্মাণ করা হচ্ছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাসরিন সুলতানা বলেন, পরিষদের জায়গাটি অরক্ষিত। তাই সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলা হচ্ছে। দোকানপাট নির্মাণের আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই।

প্রাচীর নির্মাণের বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলেও নাসরিন সুলতানা তাঁর স্বামী শহিদুল ইসলাম অথবা পরিষদের সচিবের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৮৩ হাজার টাকায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ১৯৮৫ সালে বাস্কেটবল মাঠটি নির্মাণ করা হয়। এর পর থেকে এ মাঠে নিয়মিত বাস্কেটবল ও ব্যাডমিন্টন খেলার আয়োজন করা হয়।

কিন্তু আট বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বাস্কেটবল মাঠের দুই পাশের নেটসহ স্ট্যান্ড সরিয়ে ফেলা হয়। এর পর থেকে বাস্কেটবল খেলা বন্ধ হয়ে যায়। তবে প্রতিবছর শীত মৌসুমে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। গত বছর শীত মৌসুমেও ১৬ দলের ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা বর্ষবরণের আয়োজনও করা হয়।

আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকজন নির্মাণশ্রমিক বাস্কেটবল মাঠের সঙ্গে মূল সড়কের পাশে মাটি খুঁড়ে কংক্রিটের কলাম নির্মাণের কাজ করছেন।

নওয়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাস্কেটবল মাঠটি ইউনিয়ন পরিষদের জায়গায় স্থাপিত হলেও তা স্থানীয় জনগণের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি রাস্তার সঙ্গে দোকানপাট নির্মাণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই স্থাপনা নির্মিত হলে মাঠটি আর উন্মুক্ত থাকবে না।

স্থানীয় বাসিন্দা এস এম মোস্তাফিজুর রহমান ও রুহুল আমিন বলেন, ওই স্থাপনা নির্মাণের বিরোধিতা করে তাঁরা ইতিমধ্যে নাসরিন সুলতানার সঙ্গে কয়েক দফায় সাক্ষাৎ করেছেন। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। শহিদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেও স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন বলেই জানিয়ে দিয়েছেন।

যোগাযোগ করা হলে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাচীর নির্মাণের সিদ্ধান্ত তাঁর নয়। ইউনিয়ন পরিষদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বলে স্থানীয় লোকজন প্রাচীর না করার দাবি নিয়ে এসেছিলেন। তখনো তিনি এটি পরিষদের সিদ্ধান্ত বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

তবে ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক হয়। কিন্তু প্রাচীর নির্মাণের বিষয়ে কোনো বৈঠক করা হয়নি। তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন