default-image

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নানের গ্রামের বাড়িতে হামলার পর থেকে চলমান সচিববিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচির পর ‘সুশীল সমাজের’ ব্যানারে মানববন্ধন হয়েছে। আজ সোমবার উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের নদীর বাঁধ এলাকায় এই মানববন্ধন হয়।

‘জালালপুর ইউনিয়ন সুশীল সমাজের’ ব্যানারে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সবাই স্থানীয়ভাবে সাংসদের অনুগত হিসেবে পরিচিত।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন, সমাজকর্মী রফিকুল ইসলাম, জালালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুর্শিদ উদ্দিন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল খালেক, জালালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান ও দলিল লেখক কুতুব উদ্দিন সরকার।

বক্তারা স্বাস্থ্যসচিবকে ‘নিজ এলাকায় ভেবেচিন্তে চলার এবং সাংসদের সঙ্গে বিরোধে না জড়ানোর’ পরামর্শ দেন। তাঁরা এ–ও বলেন, এলাকায় উন্নয়ন করতে হলে তা যেন সাংসদকে অবগত করে তবেই করা হয়। বিশেষ করে সচিবের বাড়িতে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনের কারণ জানতে চাইলে সমাজকর্মী রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের এমপি সুন্দর মনের মানুষ। ঘটনার সময় আমাদের এমপি পৌরসভায় সালিসিতে ছিলেন। অথচ হামলার সঙ্গে তাঁকে জড়ানো হচ্ছে। কষ্ট লাগছে বিনা তথ্য–প্রমাণে ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে ঘটনার দিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তিন আসামির জামিন মঞ্জুর না করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল রোববার এজহারভুক্ত আসামি উপজেলার মীরের পাড়ার হাদিস ভূঁইয়ার ছেলে মো. রিয়াদ, দক্ষিণ বাঘরাইট গ্রামের আসাদ মিয়ার ছেলে মো. প্রিন্স ও বীর নোয়াকান্দি গ্রামের কাছম আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন আদালতে হাজির হয়ে জামিন চেয়েছিলেন।

অপর দিকে স্বাস্থ্যসচিবের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা এজাহারটি এখনো মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি। স্বাস্থ্যসচিবের ছোট ভাই নাসির উদ্দিন তাঁর এজাহারে স্থানীয় সাংসদ নূর মোহাম্মদের ভাগনে মুন আহমেদ ও সাংসদের ব্যক্তিগত সহকারী আমজাদ হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বর্ণনায় সাংসদের উসকানি দেওয়ার প্রসঙ্গটি আনা হয়।

নাসির উদ্দিন বলেন, এজাহারটি নিয়ে এখন চরমভাবে হতাশা কাজ করছে। স্বাস্থ্যসচিবের বাড়িতে হামলা হওয়ার ঘটনায় মামলা না হলে তখন হতাশা ছাড়া আর কী–বা হতে পারে।

কটিয়াদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি এখনো নির্দেশনা পাননি। নির্দেশনা পেলে এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে।

স্বাস্থ্যসচিবের গ্রামের বাড়ি উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামে। সাংসদ নূর মোহাম্মদও একই গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি গ্রামে স্বাস্থ্যসচিবের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া ৮ শতাংশ জায়গার ওপর একটি স্যাটেলাইট কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ নিয়ে সাংসদের লোকজনের সঙ্গে বিরোধ বাধে। এর জের ধরে ৬ ফেব্রুয়ারি হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল প্রত্যাহার হয়েছেন।

এ ঘটনায় ৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিবাদ সভা করে কটিয়াদী উপজেলা আওয়ামী লীগ। সেই সভা থেকে স্বাস্থ্যসচিবকে কটিয়াদীতে অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করা হয়। পাশের উপজেলা পাকুন্দিয়াতেও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন সাংসদের অনুসারী আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা। বিক্ষোভে স্বাস্থ্যসচিবের কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর পাশাপাশি তাঁর অপসারণও দাবি করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন