বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, স্বেচ্ছায় দরপত্র না দেওয়ায় দুই নেতার মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তাঁদের তর্কাতর্কির সময় হাসপাতাল চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। করোনার টিকা নিতে আসা লোকজন ছোটাছুটি শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতার হাত থেকে দরপত্রের কাগজ ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান যুবলীগের নেতা।

উপস্থিত লোকজন পুরো ঘটনার ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এরপর সেখানে জেলা পুলিশ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা জড়ো হন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আযম অভিযোগ করেন, গত সোমবার দুপুরে এমএসআর এর দরপত্র কিনে নিয়ে বের হওয়ার পথে যুবলীগের নেতা বাসিরুর রহমান বগুড়ার আলিয়া করপোরেশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র ছিনিয়ে নেন। এ কারণে মঙ্গলবার ঢাকার তিন ব্যবসায়ী দরপত্র কেনার জন্য তাঁর (শফিউল) সহযোগিতা চান। এ কারণে তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাসিরুর রহমান জোর করে তাঁর হাত থেকে দরপত্র ছিনিয়ে নেন। ঘটনাটি তিনি প্রশাসন ও দলীয় নেতাদের জানিয়েছেন।

তবে বাসিরুর রহমান খান চৌধুরী দরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, শফিউল আযম কোনো দরপত্রই কেনেননি। তাই তাঁর কাছ থেকে দরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

নাটোর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাদাদ জানান, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কেউ থানায় দরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুই নেতার মধ্যে কথা-কাটাকাটির খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল।

আধুনিক সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক পরিতোষ কুমার রায় বলেন, ওষুধ, খাবার, সার্জিক্যাল সামগ্রী, আসবাবসহ মোট ছয়টি ভাগে প্রায় চার কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। দরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কেউ তাঁর কাছে অভিযোগ করেনি। ছিনিয়ে নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যালয়ের বাইরে কিছু ঘটলে তা দেখার দায়িত্ব তাঁদের নয়।

অপহরণের মামলা
এদিকে নাটোরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আট নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সদর থানায় মামলা হয়েছে। আবদুস সালাম নামে শহরের এক ব্যবসায়ী গত রোববার রাতে এই মামলা করেন।

এজাহারে আবদুস সালাম অভিযোগ করেছেন, আসামিরা শনিবার রাতে স্টেশনবাজার থেকে তাঁকে ও তাঁর কর্মচারী ফয়সাল হোসেনকে অপহরণ করে কানাইখালি ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের কার্যালয়ের ভেতরে আটকে রাখেন। তাঁরা তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে না পারলে তাঁরা কর্মচারী ফয়সালকে মারপিট করেন এবং হাতের নখ উপড়ে ফেলেন। বাধ্য হয়ে তিনি তাঁর মোটরসাইকেলটি দিয়ে ছাড়া পান। ঘটনাটি পুলিশকে জানালে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার হয়।

মামলার পর পুলিশ একরাম হোসেন (৩৫), আবির হোসেন (২৬) ও রবিউল আওয়াল (৩০) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। মঙ্গলবার দুপুরে নাটোর আমলি আদালত আসামিদের রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন