স্বেচ্ছাশ্রমে অর্ধশতাধিক লাশ দাহ করেছেন তাঁরা

স্বেচ্ছাশ্রমে করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া অর্ধশতাধিক লাশ দাহ করেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের দেহ সৎকার কমিটি। পৌর শ্মশানঘাটে সম্প্রতি।
ছবি : প্রথম আলো

করোনায় কিংবা উপসর্গে মারা যাওয়া ব্যক্তির পরিবারের স্বজনেরা লাশের পাশে আসেননি বা ভয় পাচ্ছেন। তাঁদের সৎকার করার জন্য দিন কিংবা রাত যখনই খবর আসে, ছুটে যান তাঁরা। কখনো বাড়ি, কখনো হাসপাতাল থেকে লাশ শ্মশানে নিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন।

স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করা সংগঠনটির নাম মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা দেহ সৎকার কমিটি। করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকে (গত দেড় বছরে) করোনায় আক্রান্ত ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া অর্ধশতাধিক মানুষের লাশ দাহ করেছে এই কমিটি। কমিটিতে ৩১ জন সদস্য আছেন। আর লাশ সৎকার করার কাজে ১০ জন সরাসরি যুক্ত।

সংগঠনের সদস্যরা বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত ও ভোররাতে এক পরিবারের আপন ভাই-বোন দুজন মারা যান। সকালবেলা উপজেলা শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরের মির্জাপুর বাজার থেকে তাঁরা ভাই–বোনের লাশ নিয়ে এসে শ্রীমঙ্গল পৌর শ্মশানঘাটে দাহকাজ করেছেন।

কমিটির সদস্য সঞ্জয় রায় বলেন, মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কিংবা করোনায় উপসর্গ নিয়ে মারা গেলে প্রতিবেশী তো দূরের কথা, অনেক সময় পরিবারের লোকজনও লাশে হাত দেন না। তাঁরা এটাও দেখেছেন যে ছেলে বাবা ও মায়ের লাশের কাছে ভয়ে আসেন না। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা লাশ দাহ করছেন।

সঞ্জয় রায় আরও বলেন, কাজটা ঝুঁকি নিয়ে করতে হয়। বেশির ভাগ সময় তাঁরা লাশ নিজেরা বহন করে নিয়ে আসেন। এই কাজে তাঁদের মাস্ক, পিপিএসহ অনেক কিছুর প্রয়োজন পড়ে। কাজটি করার খরচ তাঁদের ফান্ড থেকে দেওয়া হচ্ছে। এটি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তাঁরা স্বেচ্ছায়, স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে, বিবেকের তাড়নায় কাজ করেন। কোনো কিছু প্রাপ্তির আশায় কাজ করেন না।

সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় বলেন, গত বছর করোনায় আক্রান্ত হয়ে শ্রীমঙ্গলে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যান। তখন করোনার ভয়ে কেউ লাশ সৎকারে এগিয়ে না এলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে শ্মশানে নিয়ে আসে। এরপর শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের ওপর মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই কমিটি করা হয়।