বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তাঁদের বড় ছেলে সৌদি আরবপ্রবাসী মোবারক হোসেন বলেন, যুদ্ধের পর তাঁর জন্ম। ১৯৭০ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাঁদের মা-বাবার বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের বাবা নুরু মিয়া ২ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের শেষ দিকে পাকিস্তানি বাহিনী তাঁদের এলাকায় নিরস্ত্র মানুষের ওপর হামলা চালায়। এ সময় অনেক মানুষ হতাহত হন। নূরজাহানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মর্টার শেলের আঘাত লাগে। পরে তাঁকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন তাঁর চিকিৎসা চলে। যুদ্ধ শেষে নুরু তাঁকে নিয়ে বাড়িতে ফেরেন।

মোবারক বলেন, আখাউড়াতে বাড়ির ভিটা বাদে তাঁদের আর কিছু ছিল না। অভাব-অনটনে পড়ে যুদ্ধের পর তাঁদের বাবা সেই ভিটা বিক্রি করে দেন। ১৯৭৬ সালে তাঁর বাবা কাজের সন্ধানে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কুলাউড়ায় চলে আসেন। ভূমিহীন হিসেবে উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের লংলা খাসএলাকায় আশ্রয় নেন। সেখানে মোবারকের আরও এক ভাই ও পাঁচ বোনের জন্ম হয়। ১৯৯৭ সাল থেকে তাঁর বাবা নুরু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মানী ভাতা পাওয়া শুরু করেন। জমানো ভাতাসহ আরও কিছু টাকা ধারদেনা করে তাঁকে বিদেশে পাঠান। ২০১৫ সালে তিনি পশ্চিম গুড়াভুঁইয়ে কিছু জমি কিনে পাকা ঘর তুলেন। মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে ওঠেন। ২০১৯ সালের ২ জুন তাঁদের বাবা মারা যান।

মোবারক আরও বলেন, আঘাতের কারণে তাঁদের মা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতেন। এখন তা-ও পারছেন না। এ ছাড়া এত দিন তাঁর স্মৃতিশক্তি ভালোই ছিল। ১৫-২০ দিন আগে হঠাৎ স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে থাকে। এরপর চিকিৎসক সাঈদ এনামের চেম্বারে নিয়ে যান। তাঁর পরামর্শে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন। মাঝেমধ্যে দুই-একটি কথা বলেন। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাবেন।

আখাউড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বাহার মিয়া মালদার মুঠোফোনে বলেন, তিনি ৩ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন। নুরুকে চেনেন। ১৯৭১ সালের ২৮ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী আখাউড়ায় প্রথম হামলা চালায়। এতে নুরু মিয়ার স্ত্রীর মতো এলাকার অনেক লোক হতাহত হন। এরপর পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ চলে।

চিকিৎসক সাঈদ এনাম বলেন, চেম্বারে নিয়ে আসার সময় নূরজাহানের একটু একটু স্মৃতিশক্তি ছিল। অসুস্থতার ইতিহাস জানাতে গিয়ে অগোছালোভাবে মুক্তিযুদ্ধকালে আহত হওয়ার ঘটনার বর্ণনা দেন। মাথায় আঘাত পাওয়ার কথাও বলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এক্স-রে করে মস্তিষ্কে ধাতব পদার্থের অস্তিত্ব মিলেছে। তাঁর মস্তিষ্কের এক–তৃতীয়াংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। এ কারণে স্মৃতিশক্তি লোপসহ শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। মস্তিস্কে মর্টার শেলের টুকরা থাকাবস্থায় তাঁর ৫০ বছর বেঁচে থাকা চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিরল ঘটনা। অস্ত্রোপচার করলে হয়তো এ অবস্থার উন্নতি ঘটতে পারে। তবে এটা ব্যয়বহুল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন