বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল এই নৌপথ পরিদর্শন করেছেন বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) প্রতিনিধিরা। স্রোতের গতি কমে এলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ফেরি চালানো যাবে বলে মত দিয়েছেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

এই দলে ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর খনন বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল হক, নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের উপপরিচালক ওবায়দুল করিম খান, বিআইডব্লিউটিসির মেরিন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক আবদুস সোবাহান ও সিইজিআইএসের নদীর মরফোলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞ এ টি এম কামাল হোসেন।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতে পদ্মা নদী পার হতে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথ ব্যবহার করে। ওই নৌপথে যাত্রী পারাপার করা হয় লঞ্চে আর যানবাহন পারাপার করা হয় ফেরিতে। ফেরিগুলো পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে চলাচল করে। এ বছর বর্ষা মৌসুমে নদীতে স্রোতের গতি বৃদ্ধি পেলে বাংলাবাজার ঘাট থেকে শিমুলিয়া ঘাটে যাওয়ার পথে গত জুলাই ও আগস্ট মাসে কয়েক দফা সেতুর পিলারে ফেরির ধাক্কা লাগে। এরপর ১৮ আগস্ট থেকে ওই নৌপথে ফেরি চালানো বন্ধ রাখা হয়। ফেরি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ।

বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের উপপরিচালক ওবায়দুর করিম খান প্রথম আলোকে বলেন, নদীতে এখন স্রোতের গতি বেশি। গতি না কমলে পদ্মা সেতু অতিক্রম করে ফেরি চালানো যাবে না। তাঁরা নিয়মিত সার্ভে করছেন, প্রতিদিনই স্রোতের গতি কমছে। ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে গতি আরও কমে আসবে। তখন ফেরি চালাতে কোনো ঝুঁকি থাকবে না।

বিআইডব্লিউটিসির মেরিন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক আবদুস সোবাহান বলেন, বাংলাবাজার ঘাট থেকে ফেরি শিমুলিয়া আসার পথে স্রোতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিমুলিয়া থেকে যাওয়ার পথে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের মধ্য দিয়ে ও বাংলাবাজার থেকে আসার পথে ২৩, ২৪ ও ২৫ নম্বর পিলারের মধ্য দিয়ে সেতু অতিক্রম করে ফেরি চলতে পারবে। তবে ২৩, ২৪ ও ২৫ নম্বর পিলারের কাছে হাজরা পয়েন্টে নদীভাঙন চলছে। ড্রেজিং বিভাগ জানিয়েছে, এই মুহূর্তে খননের প্রয়োজন নেই। স্রোতের গতি কমলে ফেরি চালানো যাবে।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান বলেন, নৌপথে ফেরি বন্ধ থাকায় মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে। পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহানো লাগছে জরুরি ও মুমূষু৴ রোগীদের ঢাকায় নিতে।

বিআইডব্লিউটিসির বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক আশিকুজ্জামান বলেন, ‘ওই নৌপথে ফেরি চালানোর চাপে আছি। নদীতে এখন প্রতি ঘণ্টায় স্রোতের গতি আট কিলোমিটার। এই স্রোতে ফেরি চলতে পারবে না। আশা করছি, স্রোতের গতি কমে এলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ফেরি চলাচল শুরু হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন