default-image

বরিশাল নগরের জিয়া সড়কসংলগ্ন নবগ্রাম রোডের পিয়ন বাড়ি এলাকায় সড়কের ফুটপাতের জমি ইজারা দেওয়ায় অভিযোগ উঠেছে। জেলা পরিষদ সম্প্রতি এই জমি স্থানীয় এক ব্যক্তির নামে ইজারা দেয়। এতে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

ইজারা দেওয়া ওই জমির পেছনের অংশের মালিক স্থানীয় আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁর পৈতৃক জমির সামনে প্রধান সড়কের পাশেই প্রায় সোয়া ১ শতাংশ (দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট ও প্রস্থ ১৪ ফুট) জমির মালিক জেলা পরিষদ। দুই যুগ ধরে জেলা পরিষদের ওই সোয়া ১ শতাংশ জমি স্থানীয় ব্যক্তিদের চলাচল ও ফুটপাতের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে। হঠাৎ করেই জেলা পরিষদ নাসির আহমেদ নামের এক ব্যক্তির কাছে ওই জমি ইজারা দেয়। এতে তিনিসহ এলাকার লোকজন ভোগান্তিতে পড়েছে। তাদের চলাচলের পথও বন্ধ হয়ে গেছে।

আমিনুল ইসলামের অভিযোগ, জেলা পরিষদ যে ব্যক্তির নামে ওই জমি ইজারা দিয়েছে, ওই জমির চারপাশে নাসির আহমেদের কোনো জমি নেই।
জেলা পরিষদ কোনো জমি ইজারা দিলে প্রধান সড়কের পর ন্যূনতম ১৮ ফুট চলাচলের জন্য রাখার বিধান রয়েছে। সেখানে এই বিধি উপেক্ষা করে ওই জমি ইজারা দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বসতবাড়ির সামনের জায়গা ইজারা পাওয়ার অগ্রাধিকার আমার। কারণ, ওই জায়গাটুকু না পেলে আমার জমি থেকে বের হওয়ার কোনো জায়গা থাকে না। জেলা পরিষদে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পাইনি।’

জেলা পরিষদ কোনো জমি ইজারা দিলে প্রধান সড়কের পর ন্যূনতম ১৮ ফুট চলাচলের জন্য রাখার বিধান রয়েছে। সেখানে এই বিধি উপেক্ষা করে ওই জমি ইজারা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

আমিনুল ইসলাম জানান, তাঁর চাচাতো বোন সুরাইয়া আক্তারকে বিয়ে করেন সুইডেনপ্রবাসী নাসির আহমেদ। তাঁর চাচা সেকেন্দার আলী সুরাইয়া আক্তারের নামে ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ জমির দলিল দেন। তবে দলিলে জমির যে দাগ উল্লেখ করে ভোগদখলের কথা বলা হয়েছে, তা আগেই সেকেন্দারের অন্য ওয়ারিশদের মধ্যে হেবা ঘোষণাপত্র (নিজস্ব আত্মীয়দের মধ্যে) দলিল দেওয়া হয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকেই দলিল মোতাবেক ভোগদখলে আছেন। ফলে অতিরিক্ত জমির যে দলিল তাঁর মেয়েকে (নাসির আহমেদের স্ত্রী) দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ।

default-image

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে নাসির আহমেদের। তাঁর বড় ভাই মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ওখানে নাসিরের শ্বশুরবাড়ি। নাসিরেরও জমি রয়েছে। জমিটুকু ইজারা না পেলে সে তাঁর জমি থেকে মূল সড়কে বের হতে পারবেন না। এ জন্যই ইজারা নিয়েছে।

বরিশাল জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মানিকহার রহমান বলেন, মূলত ওই জমি ইজারা নেওয়ার জন্য নাসির আহমেদ ও আমিনুল দুজনই আবেদন করেছেন। দুজনকেই আড়াআড়িভাবে জমি ভাগ করে ইজারা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিরের অংশ ইজারা দিয়েছেন। আমিনুলের অংশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

সড়কের পাশে পথচারীদের চলাচলের জমি ইজারা দেওয়া যায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনানুগভাবেই এই ইজারা দিয়েছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন