সড়কের পাশে আবর্জনার স্তূপ, দুর্গন্ধে দুর্ভোগ

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় বন বিভাগের এমএমচালা বিট কার্যালয় থেকে ২০০ গজ দক্ষিণে সড়কের পাশে সখীপুর পৌরসভার ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। সোমবার সকালে তোলা ছবি।
প্রথম আলো

টাঙ্গাইলের সখীপুরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ও পাকা সড়কের এক পাশে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। কমপক্ষে তিন বছর ধরে এভাবে ময়লা–আবর্জনা ফেলায় ওই এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এ ছাড়া এ এলাকার ময়লা–আবর্জনার দুর্গন্ধে ভোগান্তি পোহাচ্ছে এলাকাবাসী।

স্থানীয় বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা বন বিভাগের বহেড়াতৈলী রেঞ্জের এমএমচালা বিট কার্যালয় থেকে মাত্র ২০০ গজ দক্ষিণে সখীপুর-মহানন্দপুর পাকা সড়কের এক পাশে এবং বনের ভেতরের বিভিন্ন স্থানে পৌরসভার গাড়ি দিয়ে ময়লা–আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে যাচ্ছে। দুর্গন্ধে পাশের এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বনাঞ্চলে ফেলা আবর্জনায় অপচনশীল প্লাস্টিক ও পলিথিন থাকায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।

গত সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ময়লা–আবর্জনা ফেলে একটি ট্রাক ওই এলাকা থেকে বের হয়ে আসছে। সড়কের পাশের খালি জায়গা পূরণ হয়ে যাওয়ায় পাকা সড়কের একাংশের ওপরও ময়লা–আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে সড়ক দিয়ে চলাচল করা যানবাহনকে ময়লার ওপর দিয়েই যেতে হচ্ছে। ফলে পুরো সড়কে ময়লাযুক্ত পানি ছড়িয়ে থাকায় সমস্যা পড়তে হচ্ছে পথচারীদের।

বহেড়াতৈলী রেঞ্জের এমএমচালা বিট কার্যালয় এলাকার বাসিন্দা আবুল মিয়া সোমবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কমপক্ষে তিন বছর ধরে এখানে ময়লা ফেলছে পৌরসভা। দুর্গন্ধে বাড়িতে টেকা দায়। আমরা গরিব মানুষ, দুর্গন্ধ সহ্য করেই চলছি। কাউকে কিছু বলতেও পারছি না।’

এমএমচালা বিট কার্যালেয়র বিট কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভাকে বারবার বলার পরও আমাদের কথার কোনো দামই দিচ্ছে না।’

এ বিষয়ে বহেড়াতৈলী রেঞ্জ কর্মকর্তা হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ প্রথম আলোকে বলেন, তিন বছর ধরে পৌরসভার মেয়রকে বনাঞ্চলে ও সড়কের পাশে ময়লা না ফেলার জন্য কমপক্ষে দশবার অনুরোধ করা হয়েছে। বিষয়টি বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছে। সোমবারও মেয়রের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। তারপরও তিনি শুনছেন না।

এ বিষয়ে সখীপুর পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ আজাদ বলেন, ‘ময়লা ফেলার জন্য ভিন্ন একটি জায়গা খোঁজা হচ্ছে। আশা করি, খুব শিগগির এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’