বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যত্রতত্র থামে গাড়ি

আমিনবাজার থেকে ধামরাইয়ের বারবারিয়া বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ৩৬ কিলোমিটারের বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ওঠানো-নামানোর নির্ধারিত স্থান (বাস-বে) আছে। ১৭ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে দেখা গেছে, হেমায়েতপুরের বাস-বে অধিকাংশ সময়ই সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভাড়ায়চালিত মাইক্রোবাসের দখলে থাকে। নবীনগরে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে থাকে লোকাল ও দূরপাল্লার পরিবহন। ধামরাই বাসস্ট্যান্ডের অংশটি দিনের অধিকাংশ সময় স্থানীয় ধামরাই-গুলিস্থান পরিবহন বাসের পার্কিং হিসেবেই ব্যবহার করতে দেখা যায়। পরিবহনের এলোমেলো পার্কিং ও সড়ক দখল করে ভাসমান দোকানের কারণে বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সাভার বাসস্ট্যান্ডে যানজট লেগে থাকে।

এ ছাড়া পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে ছোট–বড় প্রায় ১০-১২টি বাজার। দোকানপাট বাজার ছাড়িয়ে বসে মূল সড়কে। মধ্যরাত ও ভোরে মূল সড়কে গাড়ি থামিয়ে নামানো হয় পণ্য। এসব যানের কারণে সকালের শুরুতেই যানজট দেখা দেয়। অন্যদিকে হাইওয়ে পুলিশের অভিযান চলমান থাকা সত্ত্বেও¡সুযোগ পেলেই মহাসড়কে উঠে পড়ে নিষিদ্ধ থ্রি হুইলার, অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ইঞ্জিনচালিত যান।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত সুপার আবদুল্লাহ হেল কাফি বলেন, অবৈধ পার্কিং ও যানবাহন চলাচল করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সড়কের নতুন ব্যবস্থাপনায় অভ্যস্ত না হওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে যাত্রীরা মূল সড়কে বাসের জন্য অপেক্ষা করেন। এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি।

শ্রমিকদের অসচেতনতা

আমিনবাজার থেকে ধামরাই পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে আছে ছোট–বড় শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। দু-একটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকসহ কর্মকর্তারা পদচারী–সেতু (ফুটওভারব্রিজ) ব্যবহারের সুযোগ পান। তবে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ শ্রমিক রাস্তা পার হন মূল সড়কের ওপর দিয়েই। এ ছাড়া শ্রমিক পরিবহনের বাসগুলোও শিল্পকারখানা–সংলগ্ন মহাসড়কের ওপরেই দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।

মহাসড়কটিতে অনেকেই বিভাজক টপকে পারাপার হন। এতে বিভিন্ন সময়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। সর্বশেষ ১০ ফেব্রুয়ারি ধামরাইয়ে বিভাজক টপকে সড়ক পার হতে গিয়ে প্রাণ হারান এক যুবক।

মৃত্যুফাঁদ

সাভারে বাংলাদেশ বেতারের সামনে থেকে নবীনগর পর্যন্ত বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) ১৮টি কংক্রিটের সংযোগ বক্স আছে। এগুলো আগে সড়কের পাশ ঘেঁষেই ছিল। কিন্তু সড়ক সম্প্রসারণ করায় ২ থেকে ১০ ইঞ্চি উঁচু কংক্রিটের বক্সগুলো এখন সড়কের মাঝামাঝি চলে এসেছে। এ ছাড়া সড়ক সংস্কার, প্রশস্তকরণ, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, সড়ক বিভাজক স্থাপনের কাজ চলমান থাকলেও অধিকাংশ স্থানে পরিবহনের চালকদের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশক নেই। এ ছাড়া নবীনগর থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত সড়কের ১৪৯টি সড়কবাতিই অকার্যকর। এর মধ্যে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ৪৪টি, গেন্ডায় ৩৮ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ২০টি সড়কবাতি অকার্যকর।

এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুতই পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথের (সওজ) ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রকৌশলী সবুজ খান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সড়কের যেখানে সংস্কার চলছে, সেখানে নির্দেশনা চিহ্ন স্থাপনের জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু তাঁরা এটি অনেক সময় করেন না। এ ছাড়া ইন্টারনেট ও টেলিফোনের সংযোগ বক্সের বিষয়ে দ্রুতই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন