জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকারের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন। এ সময় জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈন উদ্দিন, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম, চুয়াডাঙ্গা জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হাসান জোয়ার্দ্দার ও জেলা বাস-ট্রাক সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম জেনারেল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক পরিবহন নেতাদের বলেন, এসব যানবাহন চলাচল বন্ধে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত তেমন সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসেনি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১০ সালে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গাসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে আলমসাধু, নছিমন, করিমন, ভটভটি চলাচল নিষিদ্ধ। কিন্তু চুয়াডাঙ্গার পাঁচটি আঞ্চলিক সড়ক চুয়াডাঙ্গা-হাসাদহ, বদরগঞ্জ-চুয়াডাঙ্গা-দরবেশপুর, চুয়াডাঙ্গা-ডম্বলপুর (আলমডাঙ্গা), চুয়াডাঙ্গা-আটকবর ভায়া দর্শনা-দামুড়হুদা ও চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা ভায়া আসমানখালী পথে অবৈধ যান অবাধে চলাচল করছে।

পরিবহননেতাদের দাবি, গত ১০ বছরে জেলায় ছয় শতাধিক মানুষ নিহত এবং আড়াই হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। উপার্জনক্ষম ব্যক্তির হতাহতের কারণে এসব পরিবারের সদস্যরা খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অপর দিকে পরিবহনশিল্প খাতে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় অব্যাহত রেখেছেন। তাই এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে প্রশাসনিকভাবে সহযোগিতা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সড়ক পরিবহন খাতকে শিল্প দাবি করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কোভিড-১৯–এর কারণে পরিবহন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চরম লোকসানের ধকল সহ্য করে আসছেন। বিধিনিষেধ শেষে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল শুরু হলেও সেই অবৈধ যানের কারণে অস্থিরতা চলছে। একই কারণে জেলার প্রায় ১ হাজার ৫০০ পরিবহন ব্যবসায়ী ও ৬ হাজার পরিবহনশ্রমিক চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।

পরিবহননেতারা হুঁশিয়ারি দেন, পাঁচটি আঞ্চলিক সড়কে আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ না হলে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘট ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন ডেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন