মেহেরপুর পৌর শহরে প্রবেশপথের সড়কের প্রস্থ মাত্র ৮ ফুট। এক সড়ক দিয়ে রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশাসহ ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল করে। তবে কিছুদূর পরপর ইজিবাইকের স্ট্যান্ড থাকায় সড়কে নিয়মিত যানজট দেখা দিচ্ছে। পৌর শহরেও এমন যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় শহরের বাসিন্দাদের।
শহরে সবচেয়ে বেশি যানজট দেখা দেয় সন্ধ্যার পর। আর শহরের বড় বাজার মোড়, ট্রাফিক মোড়, কোর্ট মোড়ে দিনের বেশির ভাগ সময় যানজট থাকে। গত কয়েক দিন শহরের এসব স্থান ঘুরে দেখা গেছে, ইজিবাইকগুলো আগে যাওয়ার জন্য একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লেগে থাকে। মানা হয় না কোনো ট্রাফিক আইন। অনেক ইজিবাইক এক থেকে দুজনের বেশি যাত্রী পাচ্ছে না। অথচ একটি ইজিবাইকে সাত থেকে আটজন যাত্রী বসতে পারে।
পৌরসভার হিসাবমতে, শহরে বর্তমানে বৈধ ইজিবাইকের সংখ্যা ৮৬৯। শহরে ইজিবাইকের জট বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, মেহেরপুর একটি পুরোনো শহর। সড়কগুলোও খুব সরু। গত ১০ বছরে এ শহরের মানুষ বেড়েছে কয়েক গুণ। যাতায়াতের সুবিধার জন্য ইজিবাইকগুলো নামানো হয়েছে। কিন্তু ট্রাফিক নিয়ম না মানায় যানজট সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না।
মেহেরপুর শহরের ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান বলেন, ইজিবাইকগুলো এলোপাতাড়িভাবে যেখানে–সেখানে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে মারামারির ঘটনাও ঘটে। গত সোমবার তাঁর দোকানের সামনে ইজিবাইক পার্ক করাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
এদিকে চালকদের অভিযোগ, বৈধ ইজিবাইকের বাইরেও শহরে অবৈধভাবে কিছু ইজিবাইক চলাচল করে। শহরে ইজিবাইক চালান এমন দুজন চালক সোহেল মিয়া ও জাব্বারুল হোসেন বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষের বাইরে শহরে পাঁচ শর বেশি ইজিবাইক চলছে। এসব ইজিবাইকের চালকেরা কোনো নিয়ম মানেন না। তদারকির বিষয়েও পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আছে।
এ বিষয়ে পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান বলেন, অবৈধ ইজিবাইক জব্দ করলেই চালকেরা আন্দোলন করেন। তবে পৌর শহরের যানজট নিরসনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ইজিবাইকের জট নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।