বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নগরের বাসিন্দারা বলছেন, শহরের অধিকাংশ মানুষ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা অথবা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে। ব্যক্তিগত গাড়ি অনেক কম। এতে ধুলাবালু সরাসরি গায়ে ও মুখে এসে পড়ায় ভোগান্তি পোহাতে হয় মানুষকে। এ অবস্থায় সামনে শুষ্ক মৌসুমে এমন দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, সিলেট শহরের অভ্যন্তরে প্রায় প্রতিটি সড়কেই ধুলার রাজত্ব। নগরের আম্বরখানা, ইলেকট্রিক সাপ্লাই, শাহি ঈদগাহ, কুমারপাড়া, বালুচর, পাঠানটোলা, মদিনা মার্কেট, মির্জাজাঙ্গাল, লামাবাজার, নাইওরপুল, মীরাবাজার, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, সোবহানীঘাট, শাহজালাল উপশহর, দক্ষিণ সুরমার পুরাতন রেলওয়ে, কদমতলীসহ প্রায় সব এলাকার সড়কে দিন-রাত সমানতালে ধুলাবালু উড়ছে।

এর মধ্যে আম্বরখানা-শাহি ঈদগাহ, নাইওরপুল-টিলাগড় সড়ক, লামাবাজার-জিন্দাবাজার সড়কের পাশে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের কাজ চলছে। সড়কের পাশে তুলে রাখা হয়েছে খোঁড়াখুঁড়ি করা মাটি। এতে সড়কে চলাচল করা যানবাহনের চাকায় এসব মাটি লেগে উড়ছে।

নগরের মীরাবাজার এলাকার এম আর ইলেকট্রনিকের ব্যবসায়ী রিপন আহমদ বলেন, ‘প্রায় পাঁচ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। এর মধ্যে এক বছর ধরে ভাঙাচোরা সড়কে ধুলাবালুর কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ধুলাবালুর কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে। ধুলাবালু কমাতে সড়কে নিজ উদ্যোগে প্রতিদিন কয়েক দফা পানি ছিটিয়ে দেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না।

নগরের আম্বরখানা এলাকায় মোটরসাইকেলের আরোহী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সারা শহরে একই অবস্থা। হেলমেট ব্যবহার করেও রেহাই পাওয়া যায় না। শরীরে ও কাপড়ে সড়কের ধুলাই কাহিল হতে হয়।

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন জন্মেজয় দত্ত বলেন, ‘ধুলাবালু শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে প্রবেশ করে ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগে আক্রান্তের আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া যাঁদের অ্যালার্জি ও অ্যাজমা রয়েছে, তাঁদেরও সমস্যা হচ্ছে। এমনিতেই করোনার কারণে মাস্ক ব্যবহারে আমরা অভ্যস্ত হচ্ছি। ধুলাবালু থেকে রক্ষার জন্য ঘর থেকে বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করলে সুফল পাওয়া যাবে।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, সম্প্রতি শহরে ধুলাবালু বেড়েছে। এ ছাড়া নালাসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলায় ধুলার সৃষ্টি হচ্ছে। তাঁরা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সড়কগুলোতে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা নেবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন