default-image

সিলেটের জৈন্তাপুরের দরবস্ত এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাইয়ুম গত শনিবার রাতে হৃদ্‌রোগে মারা যান। গতকাল রোববার সকালে তাঁর জানাজার কথা ছিল। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে যাচ্ছিলেন কাইয়ুমের দুলাভাই জৈন্তাপুরের রূপচেঙ গ্রামের জাকারিয়া আহমদ।

সকাল ছয়টার দিকে জাকারিয়াদের অটোরিকশা পৌঁছায় জৈন্তাপুর ফেরিঘাট এলাকায়। সেখানে ট্রাকের ধাক্কায় পরিবারটির চার সদস্য ও অটোরিকশার চালক নিহত হন। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি জাকারিয়া। একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে তাঁর কান্না থামছেই না।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন রূপচেঙ গ্রামের জামাল উদ্দিনের স্ত্রী সাদিয়া বেগম (৩০), তাঁর মেয়ে সাবিয়া বেগম (৪), ছেলে তাহমিদ হোসেন (৩ মাস), সাদিয়ার ননদ হাবিবুন নেছা (৩৮) ও একই গ্রামের অটোরিকশাচালক হোসেন আহমদ (৩৫)।

বিজ্ঞাপন

চোখের সামনে পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু দেখে নিজেকে সামলে রাখতে পারছিলেন না জাকারিয়া আহমদ। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যায় যখন স্বজনেরা সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন, তখন নিজের মৃত্যু কামনা করে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন তিনি।

জাকারিয়া প্রথম আলোকে বলেন, শ্যালক মারা যাওয়ার খবর শুনে রোববার সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুটি অটোরিকশায় করে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। একটিতে তিনিসহ মোট সাতজন ছিলেন। অন্য অটোরিকশায় উঠেন তাঁর ছোট ভাই অন্যরা। তাঁদের (জাকারিয়াদের) অটোরিকশাটি কিছুটা পেছনে পড়ে। সাড়ে ছয়টার দিকে অটোরিকশাটি জৈন্তাপুর ফেরিঘাট এলাকায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে উঠতে যায়। তখন সিলেট থেকে তামাবিলের দিকে যাওয়া একটি ট্রাক সজোরে সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটিতে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়েন। অটোরিকশাচালকসহ তিন যাত্রী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হন।

এরপর আর কিছু মনে নেই জাকারিয়ার। জ্ঞান ফেরার পর তিনি নিজেকে হাসপাতালের শয্যায় আবিষ্কার করেন। পরে তিনি শুনেছেন, তাঁর পরিবারের চার সদস্য মারা গেছেন। এসব শুনে কান্না থামছিল না জাকারিয়ার। হাসপাতালে আসা তাঁর মামাতো ভাই মাহমুদ আলী ও ছোট বোন হাসিনা বেগমও কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সিলেটের জৈন্তাপুর থানার ওসি দস্তগীর আহমদ বলেন, চারজনের লাশ পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একজনের লাশ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। সেটিও স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। ট্রাকটি ঘটাস্থলে পাওয়া যায়নি জানিয়ে ওসি বলেন, অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিয়ে ট্রাকটি পালিয়ে গেছে। ট্রাক ও এর চালককে ধরতে অভিযান চলছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন