সড়ক আটকে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ

বিষয়টির সমাধান চেয়ে ভুক্তভোগী লোকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

চলাচলের পথে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রাচীর। সম্প্রতি গোয়ালন্দ উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামেছবি: প্রথম আলো

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামে পাকা সড়ক আটকে প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে গ্রামের অর্ধশত পরিবারের সদস্যরা চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েছে। প্রায় তিন দশক ধরে ওই রাস্তা দিয়ে তারা চলাচল করে।

ওই গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কাদের ব্যাপারী গত মাসের শুরুতে ওই প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বিষয়টির সমাধান চেয়ে ভুক্তভোগী লোকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের একজন স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোজিনা খাতুন গত ৬ জানুয়ারি ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর ৫৬ জন ভুক্তভোগী স্বাক্ষর করে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে প্রাচীর নির্মাণ বন্ধ ও প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। এতে ছোটভাকলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চৌধুরী, ইউপি সদস্য আবদুস সালাম শেখও স্বাক্ষর করেন। সর্বশেষ গত ১৫ জানুয়ারি প্রতিকার চেয়ে ইউএনওর কাছে পুনরায় আবেদন করেন গ্রামবাসী।

রোজিনা খাতুন বলেন, ‘বিষ্ণপুর মৌজায় এসএ খতিয়ানে কাদের ব্যাপারীর ৩৪ শতাংশ জমি ছিল। তবে বিএস খতিয়ানে ভুলবশত সেটা ৩৭ শতাংশ হয়ে গেছে। এখন তিনি রাস্তা দখল করে প্রাচীর করছেন। এতে আমরা তিনটি পরিবার বাড়ি থেকে বের হতে পারব না।’

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে ওই রাস্তা দিয়ে সবাই চলাচল করছে। এখন কাদের ব্যাপারী জোর করে রাস্তা আটকে দিচ্ছেন। এতে তাঁদের আধা কিলোমিটার ঘুরে আসতে হবে। কৃষকদের মাঠে যাওয়া, মালামাল আনা–নেওয়ায় সমস্যা হবে।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, ‘বহু বছর ধরে দেখছি, রাস্তাটি দিয়ে মানুষ চলাচল করছে। এখানে কাদের ব্যাপারীর দখলে প্রায় ৩ শতাংশ জমি বেশি আছে। ওইটুকু ছেড়ে দিলেই কিন্তু রাস্তা ঠিক থাকে।’

এ বিষয়ে কাদের ব্যাপারী বলেন, ‘আমার জমিতে কাজ করছি, তাতে কার কী? ৩৪ কিংবা ৩৭ শতাংশ বুঝি না? আমি কারও রাস্তা দেব না।’

ছোটভাকলা ইউপির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, রাস্তাটি প্রায় ৩০ বছরের। সরকারি অর্থায়নে রাস্তা ও কালভার্ট বসানো আছে। কাদের ব্যাপারী জোর করে রাস্তা আটকানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করলেও তাঁরা মানছেন না।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। পরে জানতে পারি, কাদের ব্যাপারীর দখলে বেশি জমি রয়েছে। এটা সত্যি হলে তাঁর রাস্তা আটকানোর সুযোগ নেই।’