default-image

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যের বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সড়ক খুঁড়ে ইট ও বালু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের রানীগঞ্জ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

অভিযুক্ত ওই ইউপি সদস্যের নাম ইসরাক আলী। তিনি রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের উপসহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ইউপি সদস্য ইসরাক আলী সওজের অনুমতি না নিয়ে ড্রেন নির্মাণের জন্য বুধবার গভীর রাতে প্রায় ৩০০ ফুট সড়ক খুঁড়ে সড়কের ইট বালু নিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইসরাক আলীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে লিখিতভাবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণের জায়গা থাকার পরও বর্ধিত অংশ খননের ফলে সড়কটি সরু হয়ে যানচলাচল ও ফেরি পারাপার বিঘ্নিত হচ্ছে।

রানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ও ফেরির ইজারাদার আবুল কাশেম বলেন, ইসরাক আলী সড়কের পূর্ব পাশে অনেক খালি জায়গা রেখে গভীর রাতে খননযন্ত্র দিয়ে ইট ও বালু তুলে বাঘময়না গ্রামের নোমান মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যান। তাঁরা খবর পেয়েছেন ইসরাক সড়কের মালামাল প্রবাসী নোমান মিয়ার লোকজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। সড়কটি খনন করায় ফেরি পারাপার ও যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রানীগঞ্জ বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী আরজান মিয়া বলেন, সড়কের প্রায় ২০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও তিন ফুট প্রস্থে খনন করার কথা থাকলেও ইট ও বালু বিক্রির জন্য আরও বেশি খনন করা হয়েছে। অপরিকল্পিত এ ড্রেন কোনো কাজেও লাগবে না।

রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সজীব কান্তি দাশ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের এলজিএসপি প্রকল্প থেকে এ ড্রেন নির্মাণকাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয়ে এ ড্রেন নির্মাণকাজ করা হবে। এখনো কাউকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। তবে বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেনে কাজ করাচ্ছেন।

আজমল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ধরেননি।

রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইসরাক আলী বলেন, ‘আমি ড্রেনের কাজ করছি না। ঠিকাদার কাজ করছে। আমার বিরুদ্ধে সড়কের ইট ও বালু বিক্রির অভিযোগ সঠিক নয়।’

রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর লিখিত পত্র পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন