স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সড়কে মাটি ভরাটের কাজে চলছে অনিয়ম–দুর্নীতি। মাটির বদলে ফেলা হচ্ছে বালু। রড ও সিমেন্টের দাম বাড়ার অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০-২৫ দিন ধরে কাজ বন্ধ রেখেছে। এ বিষয়ে সওজ দপ্তরে অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না।

শুক্রবার দুপুরে সড়কটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, বড় বড় গর্তে জমে আছে বৃষ্টির পানি। কাদায় মাখামাখি হয়ে হেঁটে দ্বীপে যাচ্ছেন মানুষজন। অনেকে কাঁধে করে বস্তাভর্তি মালামাল নিয়ে যাচ্ছেন। সড়কের শেষ অংশে ভরা খালের ওপর নির্মিত সেতুটির দুই পাশে নেই সংযোগ সড়ক। লোকজন সেতুর নিচ দিয়ে ডিঙিনৌকায় খাল পার হচ্ছেন। খালের পানিতে তেলের ড্রাম জোড়া লাগিয়ে এর ওপর বাঁশের চাটাই বিছিয়ে বানানো হয়েছে ভাসমান সাঁকো। সাঁকোটির অবস্থাও নাজুক। সড়কের মধ্যভাগ খালি রেখে বালু ফেলা হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে খালি জায়গায় পানি জমে খালে পরিণত হয়। তখন সড়কের দুই পাশে কাদার ওপর দিয়ে হেঁটে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলতে হয়।

তিন শিশুসন্তান নিয়ে ভরা খাল পার হওয়ার জন্য নৌকার অপেক্ষায় ছিলেন শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণপাড়ার গৃহবধূ রহিমা বেগম (৪৫)। তিনি বলেন, আগের দিন সকালে শিশুদের নিয়ে তিনি ১৮ কিলোমিটার দূরে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। এক আত্মীয়ের বাসায় রাত কাটিয়ে বাড়ি ফিরছেন। কর্দমাক্ত রাস্তা পার হয়ে আসতে এক ছেলের পা মচকেছে। তাঁর পায়ের একটি আঙুল কেটে গেছে কাচের ভাঙা বোতল লেগে।

default-image

মিস্ত্রিপাড়ার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোসেন (৪৫) বলেন, দ্বীপের ৪৫ হাজার মানুষের তরিতরকারি, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যসহ পাঁচ শতাধিক দোকানপাটের মালামাল আনতে হয় টেকনাফ সদর থেকে। সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় মালামাল আনতে হয় লোকজনের কাঁধে এবং কিছু অংশ নৌকায় করে। ফলে দুর্ভোগের শেষ নেই।

জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী তানিন মাহমুদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ আছে। সড়কে মাটির কাজ শেষ হলে কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হবে। খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর উভয় পাশে মাটি ভরাট কাজও শিগগিরই শেষ হবে।

কাজে অনিয়ম বা দুর্নীতি হচ্ছে না বলে দাবি করেন সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জে কে এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবদুস জব্বার চৌধুরী। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ২০২১ সালের ৩০ জুনে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

সড়ক উন্নয়নকাজে বৃষ্টি প্রধান বাধা বলে দাবি করেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আরেফিন। তিনি বলেন, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করা হবে। এ ব্যাপারে ঠিকাদারকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। গত ছয় মাসে তেমন বৃষ্টি হয়নি জানালে সেতুমন্ত্রীর পিএসকে নিয়ে মহেশখালীতে কাজে ব্যস্ত আছেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন নির্বাহী প্রকৌশলী।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন