বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত অক্টোবরে কুমার নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে গোয়ালবাথান এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনে সড়কটির দুই স্থানে প্রায় ২০০ মিটার বিলীন হয়ে যায়। এ ছাড়া সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা যায়। ভাঙন ও সড়কটি রক্ষায় গত সেপ্টেম্বরে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ৮৫ মিটার অংশে ৮ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়। তারপরও সড়কটির বড় একটি অংশ ধীরে ধীরে কুমার নদে ধসে পড়ে। বর্তমানে নদের পানি কমে গেলেও সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ।

রাজৈর উপজেলা সদর থেকে গোয়ালবাথানের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। এটি মূলত টেকেরহাট-কালীবাড়ি ফিডার সড়ক নামে পরিচিত। কুমার নদের ভয়াবহ ভাঙনে গোয়ালবাথান এলাকার এই দুটি স্থানে ১৫ থেকে ২০ ফুট ধরে ধস নেমেছে। ভাঙনের স্থানে ১৪ ফুট সড়কের ১৩ ফুটই ধসে গেছে। বাকি অংশে সড়কটির কার্পেটিং, বিটুমিন, ইট, বালুসহ জমির মাটি খসে নদের পাড়ে পড়ছে। সড়কটির অন্য পাশে ফসলি জমি, উঁচু স্থানে রয়েছে বসতঘরও। সড়কটি দিয়ে দুই বা তিন চাকার কোনো যানবাহন চলতে পারছে না। উপজেলা সদরে যোগাযোগের জন্য লোকজনকে তিন থেকে চার কিলোমিটার হেঁটে যানবাহনে উঠতে হয়। নয়তো উল্টো প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে যানবাহনে করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।

গোয়ালবাথান-কালীবাড়ি সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী ব্যবসায়ী রবিউল শেখ বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে আগে ভ্যানে মালামাল নিতাম। এখন মাথায় করে মালামাল টানতে হয়। ভ্যান বা অন্য গাড়ি এই পথে চলার উপায় নেই। কয়েক মাস ধরে খুব কষ্টে মধ্যে আমরা ব্যবসা করছি।’

গোয়ালবাথান এলাকার কৃষক ষাটোর্ধ্ব কৃষক ভীম মণ্ডল। কৃষিকাজ করেই চলে তাঁদের জীবিকা। সড়কটি এই দশা নিয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সড়কটির এপারে আমার চার বিঘা ধানি জমি। এই শীতকালের মধ্যে রাস্তা ঠিক না হলে এই ধানি জমি আর টিকবে না। সামনের বর্ষায় আবার নদীভাঙনে রাস্তার সঙ্গে থাকা বাকি বাঁধটুকু ভেঙে পড়বে। রাস্তাটি পুরোপুরি ধসে গেলে আমাদের জমিজমা যা আছে, সব শেষ।’

হরিদাসদী এলাকার আজাদ মাতুব্বর বলেন, ‘এই এলাকার বহু কৃষক কলাই-মসুর ডালসহ অনেক কৃষিপণ্য হাটে নিয়ে যান। রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় এসব পণ্য হাটে নিতে কৃষকদের খুব কষ্ট হয়। আমরা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানাই।’

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গোয়ালবাথান-কালীবাড়ি সড়কটি সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৪ দশমিক ২০০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয় কোটি ৮ লাখ টাকা ।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘সড়কটি মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ। আমরা বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে রাস্তা করেছি। এখন তারা ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার করে দিলে আমরা সড়কটি আবার আগের মতো সংস্কার করে দেব। বাঁধ নির্মাণে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলাও হয়েছে।’

এ সম্পর্কে পাউবো মাদারীপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য নকশার কাজ শেষ করে আবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে। আগামী বর্ষার আগেই কুমার নদের ভাঙনকবলিত ওই অংশে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন