default-image

ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার করা হবে। পরে বড় প্রকল্পের মাধ্যমে তৈরি হবে আধুনিকায়ন পাকা প্রশস্ত সড়ক। এ জন্য সড়কের দুই পাশে থাকা রেইনট্রি কেটে ফেলা হচ্ছে। কুষ্টিয়া পৌরসভার এই সড়কের অবস্থান শহরের সাদ্দাম বাজার মোড় থেকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল পর্যন্ত। এই সড়কের দুই পাশে দুই শতাধিক রেইনট্রি রয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ১৬ বছর আগে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা এসব গাছ দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি সংস্কার এবং এক বছরের মধ্যে আধুনিকায়নসহ পুনর্নির্মাণ করা হবে। এই সড়কে জেনারেল হাসপাতাল, প্রধান ডাকঘর ও খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২২ মার্চ পৌর কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে চিঠি দিয়ে প্রথমবার দরপত্র আহ্বান করে। সে সময় সর্বোচ্চ দরদাতা ছিলেন ওয়াহিদ মুরাদ নামের এক ঠিকাদার। তবে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে তিন হাজার টাকা কম হওয়ায় পৌরসভা পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্রে গাছগুলোর সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ একটি গাছের দাম গড়ে ৭৭৮ টাকা। ৮ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার দরপত্রেও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা দর দেন ওয়াহিদ মুরাদ। এসব গাছের বিক্রয় মূল্য থেকে ৭০ শতাংশ উপকারভোগীরা পাবেন।

ঠিকাদার ওয়াহিদ মুরাদ বলেন, গাছগুলো কেটে নিতে পৌরসভা তাঁকে এক মাস সময় দিয়েছে। তিনি ১৭ এপ্রিল থেকে গাছ কাটা
শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে ২৫ শতাংশ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন কাঠ ব্যবসায়ী জানান, হাসপাতাল রোডের অনেক গাছের দাম ১০–১২ হাজার টাকার ওপরে। তবে কিছু গাছ
আছে চিকন। সেগুলোর কম দাম হবে। সব মিলিয়ে প্রতিটি গাছের দাম ছয় থেকে সাত হাজার টাকা হলে ভালো হতো।

তবে ঠিকাদার ওয়াহিদ মুরাদের দাবি, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী সব গাছের শিকড় তুলে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে বেশ খরচ হবে। ভ্যাট ট্যাক্স দিয়ে অনেক খরচ পড়বে। রেইনট্রির কাঠ ও খড়ি বিক্রি করে লাভ কমই হয়।

গত বৃহস্পতিবার গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক কেটে ফেলা গাছগুলো ভ্যানে করে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন। কেটে রাখা অনেক গাছের গুঁড়ি সেখানে পড়ে আছে। সব গাছের গায়ে লাল কালি দিয়ে নম্বর দেওয়া রয়েছে।

কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানা যায়, সড়কের গাছগুলো কাটার পর প্রথমে সংস্কার করা হবে। খানাখন্দ বন্ধ করে কার্পেটিং করে দেওয়া হবে। সড়কটি আগামী বছর মার্চে প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হবে।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, গাছ কেটে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পরে সেখানে আট
ফুট দূরত্ব বজায় রেখে ভেজষ ও বনজ গাছ লাগানো হবে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন