হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোবাশ্বের হোসেন আজ দুপুরে প্রথম আলোকে জানান, কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটে ১৮টি ডায়ালাইসিস যন্ত্র চালু ছিল। কিন্তু যন্ত্রের ত্রুটি হওয়ায় ১৩টি যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ে।

হাসপাতালের কিডনি ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রতিটি যন্ত্রে দুই থেকে তিনজন রোগীর ডায়ালাইসিস হয়ে থাকে। এ ইউনিটে গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ জন রোগীর প্রতিদিন নিয়মিত ডায়ালাইসিস হয়ে আসছিল। পর্যায়ক্রমে ৬০-৭০ জন সিরিয়ালে থাকে। একজন রোগীর সপ্তাহে দুই দিন করে ডায়ালাইসিস হয়। যন্ত্রগুলো বন্ধ হওয়ায় নিয়মিত রোগীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। তাঁরা বিপাকে পড়েছেন।

আজ দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীরা বিছানায় শুয়ে-বসে আছেন। তাঁরা বড় অসহায় হয়ে পড়েছেন। এ সময় কথা হয় নীলফামারীর জলঢাকা এলাকার এনামুল হকের (৬৫) সঙ্গে। তিনি বলেন, সকালে তিনি ডায়ালাইসিস করছিলেন। মাত্র আধা ঘণ্টা ডায়ালাইসিস হওয়ার পর হঠাৎ যন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়। বিছানায় শুয়ে-বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই বছর থেকে এখানে সপ্তাহে দুই দিন করে ডায়ালাইসিস করছি। এভাবে কখনো আগে এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়নি। যন্ত্র নষ্ট হওয়ায় ডায়ালাইসিস নিয়ে খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম।’

ডায়ালাইসিস চলা অবস্থায় আরও কয়েকটি যন্ত্র একই সঙ্গে বিকল হওয়ায় কয়েকজন রোগী খুবই বিপদে পড়েছেন। কুড়িগ্রামের রমজান আলী (৫৫) নামের এক রোগী আড়াই বছর থেকে ডায়ালাইসিস করছেন। তিনি বলেন, ‘আজ ডায়ালাইসিস চলা অবস্থায় যন্ত্র নষ্ট হওয়ায় খুব বিপদে পড়ে গেলাম। কী করব ভাবতে পারছি না।’

একইভাবে আরও দুজন রোগী লালমনিরহাটের পাটগ্রামের সাজ্জাদ হোসেন (২২) ও দিনাজপুরের চিরিরবন্দর এলাকার আবদুস সামাদ (৫০) দুর্ভোগ আর নানা কষ্টের কথা জানালেন।

এ ছাড়া লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ এলাকার আইনুল হক, রংপুর সদরের কেদার মহন্ত, রংপুরের গঙ্গাচাড়ার মাহমুদুল হাসান ডায়ালাইসিস করতে এসে জানতে পারেন যন্ত্র নষ্ট। এখন তাঁরা কী করবেন, তা নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

ভুক্তভোগী রোগীরা জানালেন, নিয়ম অনুযায়ী ডায়ালাইসিস করতেই হবে। আর তা না হলে শরীর ভেঙে পড়ে। বাধ্য হয়ে বাইরে বেসরকারি হাসপাতালে অনেক বেশি টাকায় ডায়ালাইসিস করতে হতে পারে।

যন্ত্রগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছেন টেকনিশিয়ান মাসুদ রানা। তিনি বলেন, ‘এসব যন্ত্র তো অনেক পুরোনো। প্রায় নষ্ট হয়। ঢাকায় জানানো হয়েছে। কেননা, এখানে এসব ঠিক করার অভিজ্ঞ লোক নেই। এরপরও আমরা টুকটাক চেষ্টা করে যাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা এই মহূর্তে বলতে পারছি না।’

হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, ২০১০ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেফ্রোলজি বিভাগে কিডনি রোগীদের রোগ নির্ণয়ে ১৮টি ডায়ালাইসিস যন্ত্রগুলোর মধ্যে ১০টি যন্ত্র ২০১০ সালের। বাকি ৮টি যন্ত্র ২০১৬ সালের। এসব যন্ত্রের ওয়ারেন্টি তিন বছরও পেরিয়ে গেছে। এখন মেরামত করে চলছে।

হাসপাতালের পরিচালক রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, রংপুরে এসব যন্ত্র মেরামত করতে সার্বক্ষণিক কোনো অভিজ্ঞ লোক নেই। তাঁদের আনতে ঢাকায় চিঠি লিখতে হয়। তবে স্থানীয়ভাবে টেকনিশিয়ানদের দিয়ে ভালো করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন