বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পঞ্চম ধাপে ৫ জানুয়ারি বটতৈল ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সামনে রেখে গত ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমানসহ তাঁর কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। এতে মিজানুর রহমানসহ ১০ জন আহত হন। মিজানুরের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মিজানুরের মা শেফালী খাতুন বাদী হয়ে নৌকার প্রার্থী মোমিন মণ্ডলের ৫৫ নেতা-কর্মীকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয় মফিজ মণ্ডলকে।

আমি কি চোর না ডাকাত? আমি আওয়ামী লীগের জন্য আমার ব্যবসা-বাণিজ্য বাদ দিয়ে এলাকার মানুষের কাজে নিয়োজিত। দলকে সুসংগঠিত করছি। আমাকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। আমি নেতাদের বলব, কীভাবে আমার মামলা প্রত্যাহার করে নেবেন, সেই ব্যবস্থা করে দেবেন।
মফিজ মণ্ডল, হত্যাচেষ্টা ও হামলা মামলার প্রধান আসামি

এদিকে মিজানুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে তাঁরা পুলিশের ওপর হামলা করেন। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা পাঁচ হাজার মানুষকে আসামি করে একটি মামলা করে।

দুটি মামলা তদন্ত করছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম। জানতে চাইলে তিনি আজ শুক্রবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত দুজন আসামি কারাগারে। তবে প্রধান আসামি মফিজ মণ্ডল পলাতক।

গতকাল নৌকার নির্বাচনী পথসভায় মফিজ মণ্ডল বক্তব্য দিয়েছেন এ কথা বলা হলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘পারিবারিক কাজে একটু ব্যস্ত আছি। আধা ঘণ্টা পরে কথা বলি।’

৫ জানুয়ারি সদর উপজেলার ১১টি ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে ইউনিয়নগুলোতে প্রচার চলছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বটতৈল দোস্তপাড়া এলাকায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ টহল রয়েছে।। এরই মধ্যে গতকাল বিকেলে দোস্তপাড়া এলাকায় নৌকার প্রার্থীর নির্বাচনী পথসভায় হত্যাচেষ্টা ও হামলা মামলার প্রধান আসামি মফিজ মণ্ডল বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি কি চোর না ডাকাত? আমি আওয়ামী লীগের জন্য আমার ব্যবসা-বাণিজ্য বাদ দিয়ে এলাকার মানুষের কাজে নিয়োজিত। দলকে সুসংগঠিত করছি। আমাকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। আমি নেতাদের বলব, কীভাবে আমার মামলা প্রত্যাহার করে নেবেন, সেই ব্যবস্থা করে দেবেন। নৌকার জয় হবেই হবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মফিজ মণ্ডল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার জামিন প্রক্রিয়াধীন। আমি বটতৈল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২১ তারিখের গন্ডগোলের বিষয়ে তেমন কিছুই জানি না। এরপরও আমাকে মামলার আসামি করা হয়েছে। মাঝেমধ্যেই পুলিশ আমার বাড়িতে আসছে।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মামলার প্রধান আসামি কীভাবে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন? এভাবে চলতে থাকলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন