বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সভায় পরিবেশবাদী নেতারা বলেন, হবিগঞ্জ শহর বর্তমানে আবর্জনা ও দুর্গন্ধের শহরে পরিণত হয়েছে। তাই জেলাবাসীর মৌলিক নাগরিক অধিকার সংরক্ষণের প্রয়োজন। পুরাতন খোয়াই নদের দখল উচ্ছেদ হয়েছিল এক বছর আগে। কিন্তু উচ্ছেদ করা জায়গায় নদীর সীমানা নির্ধারণ না করায় এগুলো পুনরায় দখল হয়ে গেছে। পাশাপাশি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুরে কৃষি জমির ওপর গড়ে ওঠা কারখানার বর্জ্য হাওর, বিল ও নদী দূষিত করেছে। এসব রক্ষায় প্রশাসন এগিয়ে আসছে না। এই সংকট নিরসনে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাপা জেলা শাখার সভাপতি মো. ইকরামুল ওয়াদুদ। সভায় জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, ‘হবিগঞ্জের ময়লাগুলো যত্রতত্র ফেলা হয়। আমরা ডাম্পিং স্টেশনের জন্য একটি জায়গা ঠিক করেছি। পুরাতন খোয়াই সংস্কার নিয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখেছি। আশা করি, বরাদ্দ আসবে। সুতাং নদের দূষণ রোধ নিয়েও আমরা যথাসাধ্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’


অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিন্টু চৌধুরী বলেন, ‘পাহাড়, টিলা, হাওর, বন, নদী—সবকিছুই ভালো রাখতে হবে। আমরা উন্নয়ন করব, তবে পরিবেশকে ক্ষতি করে নয়। আমরা চেষ্টা করছি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য। পুরাতন খোয়াই নদী থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছিল, আবার দখলমুক্ত করা হবে।’

বাপার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল সভায় জেলার নদ-নদী, পাহাড়, টিলা, হাওর, পুকুর, জলাশয়, শিল্পদূষণ ইত্যাদির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নদীগুলো সুস্থ নেই। প্রকৃত অর্থে নদী, পুকুর, জলাশয়গুলো বিলীন হয়ে যাচ্ছে। খোয়াই, পুরাতন খোয়াই, সুতাং, সোনাই নদের ওপর চলছে বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার। একদিকে চলছে নদ–নদীর বুক থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন ও দখল, অন্যদিকে শিল্পের নামে কলকারখানার বর্জ্য ফেলে দূষিত করা হচ্ছে নদ–নদী। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অন্যায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সভায় বক্তব্য দেন বাপা হবিগঞ্জের সহসভাপতি তাহমিনা বেগম গিনি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বাপা কোষাধ্যক্ষ শোয়েব চৌধুরী, বাপা যুগ্ম সম্পাদক হারুন সিদ্দিকী প্রমুখ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন