default-image

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা ও বানিয়াচং থানা চত্বরে দেড় শ বছরের পুরোনো একটি শিরীষগাছ ও তিনটি কড়ইগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ‘উন্নয়নের স্বার্থে’ গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। তবে এলাকাবাসী বলছেন, পুরোনো এই গাছগুলো পরিবেশের জন্য ছিল সহায়ক। এগুলো না কেটেও উন্নয়ন করা যেত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদর মডেল থানার ভেতরে অসংখ্য গাছগাছালির মধ্যে দক্ষিণ পাশে বেড়ে ওঠা প্রায় দেড় শ বছরের পুরোনো একটি শিরীষগাছ ছিল সবার চোখে পড়ার মতো। থানার দক্ষিণ পাশ দিয়ে গেছে জেলা প্রশাসকের বাসভবন সড়ক। এই সড়কের ওপর প্রতিদিন প্রাকৃতিক যে ছায়া তৈরি হতো, তার পুরোটাই ছিল এই গাছকে ঘিরে। এই গাছের শীতল ছায়ার নিচ ছিল অনেকের আশ্রয়স্থল। পাশাপাশি এলাকার ক্ষুদ্র ফল ব্যবসায়ীরা পসরা সাজিয়ে বসতেন এই ছায়াকে ঘিরে।
দু-তিন দিন আগে হঠাৎ করে পুরোনো বিশাল আকৃতির শিরীষগাছটি কেটে ফেলে থানা কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, সম্প্রতি থানার দক্ষিণ দিকে নতুন করে একটি ফটক তৈরি করা হয়েছে। এই ফটক দিয়ে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সার্কেল কার্যালয়ে যাতায়াতের সড়ক নির্মাণ করা হবে। সড়ক নির্মাণে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর কারণে এই গাছ কাটতে হয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর মতে, থানার দক্ষিণ পাশে যে ফটক তৈরি করা হয়েছে, তা না করলেও চলত। কারণ নির্মাণ করা এই ফটকের ১৫ গজ পূর্বে সার্কেল অফিসে যাতায়াত করার আরও একটি সড়ক রয়েছে। সেই সড়কই তাদের সার্বিক চলাচলে যথেষ্ট ছিল।
জানতে চাইলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান জানান, উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে থানার নতুন ফটক ঘেঁষে থাকা গাছটি কাটতে হয়েছে। তবে পরিবেশ ছাড়পত্রসহ সব ধরনের অনুমোদন সাপেক্ষে তাঁরা এই গাছ কেটেছেন।
এদিকে হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানার ভেতরে বেড়ে ওঠা বড় বড় তিনটি কড়ইগাছ কেটে ফেলেছে থানা কর্তৃপক্ষ। সরেজমিন এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বানিয়াচং থানার দক্ষিণ পাশের দেয়াল ঘেঁষে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠেছে কড়ই, শিরীষগাছসহ অসংখ্য গাছগাছালি। এই থানার সামনে দিয়ে গেছে হবিগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কটি। এই সড়কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এই গাছগুলোকে ঘিরে।
এক সপ্তাহ ধরে বানিয়াচং থানা কর্তৃপক্ষ তাদের থানা কমপ্লেক্সের দক্ষিণ পাশের তিনটি বড় আকারের কড়ইগাছ কাটতে শুরু করে। গতকাল শুক্রবার শেষ হয় গাছ কাটা। এলাকাবাসীর দাবি, একেকটি গাছ ওই এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ছিল প্রকৃতির প্রাণ। কী কারণে তিনটি কড়ইগাছ কাটা হলো, তা এলাকাবাসীর কাছে পরিষ্কার নয়।
থানা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই তিনটি গাছ থানার সীমানাদেয়াল ঘেঁষে বেড়ে ওঠায় সীমানাপ্রাচীর ধসে পড়ার উপক্রম হয়ে উঠেছে। যে কারণে তিনটি গাছ কাটতে হয়েছে।
বানিয়াচং এলাকার বাসিন্দা চিকিৎসক সাখাওয়াত হাসান বলেন, ‘এলাকার মুরব্বিদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, একেকটি গাছ প্রায় দেড় শ বছরের পুরোনো। এই গাছগুলোই ওই এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে আসছিল। এভাবে বিনা প্রয়োজনে গাছগুলো কাটা ঠিক হয়নি। এটি পরিবেশের জন্য আঘাত।’
বানিয়াচং থানার ওসি রাশেদ মোবারক বলেন, তিনি এই থানায় যোগদানের আগেই গাছগুলো কাটার অনুমোদন নেওয়া হয় বন বিভাগ থেকে। বন বিভাগের লোকজন ভালো বলতে পারেন কী কারণে এই গাছগুলো কাটা হয়েছে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুনের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0