পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ সদরের লুকড়া ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকায় খোয়াই নদের ফসল রক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দেয়। এতে লুকড়া ইউনিয়নের পাঁচ-ছয়টি হাওরে পাশের লাখাই উপজেলা থেকে পানি প্রবেশ করে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজরাতুন নাঈম জানান, খোয়াই নদের বাঁধের ভাঙনে বেশ কিছু হাওর ডুবছে। এলাকার কৃষকেরা আগেই ধান কাটা শেষ করায় ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে কিছু গ্রাম প্লাবিত হতে পারে।

লাখাইয়ের ইউএনও শরীফ উদ্দিন জানান, অতিবৃষ্টি ও উজানের পানিতে ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে লাখাই সদর, বুল্লা ও বামৈ ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তাঁরা ইতিমধ্যে ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছেন। পানি বাড়ার আশঙ্কায় আরও কেন্দ্র খোলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রেখেছেন।

অপর দিকে নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর পারকুল, ফাদুল্লা, ইনাতগঞ্জ, ওমরপুর ও দীঘলবাঁক এলাকায় আজ ভোর থেকে কুশিয়ারা নদীর পানি প্রতিরক্ষা বাঁধ উপচে আশপাশের হাওর ও গ্রামগুলোতে প্রবেশ করছে। পাউবো বালুর বস্তা দিয়ে এ বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছে।

নবীগঞ্জের ইউএনও শেখ মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে জানান, আজ দুপুর পর্যন্ত উপজেলার ইনাতগঞ্জ, দীঘলবাঁক, বড়বাকৈ পূর্ব, বড় বাকৈ পশ্চিম ও আউশকান্দি ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব ইউনিয়নে ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রথম দিনেই ২০৭ পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় পানি বেশি, সেখান থেকে লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে প্রশাসন থেকে।

এদিকে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার নিকলি ঢালা দিয়ে কুশিয়ারা নদীর পানি প্রবেশ করছে। পাশাপাশি উপজেলার ডিসি সড়ক উপচে আজ সকাল থেকে সদর ইউনিয়ন, কাকাইলছেও ও বদলপুর ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া পৌর এলাকায় প্লাবিত হয়েছে জয়নগর, আদর্শগ্রাম, নিজ বাজার ও অনুকূলচন্দ্র ঠাকুরের আশ্রম এলাকা।

আজমিরীগঞ্জের ইউএনও সুলতানা সালেহা জানান, প্লাবিত গ্রামগুলো থেকে লোকজনকে উদ্ধার করে ২১টি আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। আশ্রয় পেয়েছে প্রায় ৫০০ পরিবার।

হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার এ ৪ উপজেলায় বন্যা দেখা দেওয়ায় সাড়ে ১৭ হাজার হেক্টর জমির আমন ও সবজির ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৪ হাজার হেক্টর জমির আমন, ৩ হাজার হেক্টর জমির আউশ ও প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির সবজি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশেক পারভেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন