বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হরিজন কলোনির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন শিবরাজ বাঁশফোড় ও চঞ্চলী ভুঁইমালী। শিবরাজ বলেন, তিনি আমনূরা দলের হয়ে জেলার ক্রিকেট লিগে অংশ নিয়েছেন। উপজেলার বাইরে গিয়েও দলের সদস্যদের সঙ্গে রেস্তোরাঁয় খেয়েছেন। এ সুযোগ হয়েছে, কারণ অন্য এলাকায় তাঁকে কেউ হরিজন হিসেবে চেনেন না। কেবল নিজ এলাকাতেই সমস্যায় পড়তে হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাইরে বসবাসকারী হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যদের কাছে থেকেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন সঞ্জয় দত্ত গঙ্গাপুত্র। তিনি উপজেলার হরিজন তরুণ-যুবকদের সংগঠন নাচোল হরিজন যুব উন্নয়ন কমিটির সভাপতিও। সঞ্জয় বলেন, স্থানীয় এক রেস্তোরাঁয় তাঁর খাবার খাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু বের হওয়ার সময় রেস্তোরাঁর মালিক ডেকে বলেছিলেন, ‘কর্মচারীরা তোমাকে চিনতে পারেনি বলে ভুল করে খাবার দিয়েছে। এর পর থেকে আর আসবে না।’

এই ঘটনার পর রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেন সঞ্জয়। পরে ইউএনও সাবিহা সুলতানা রেস্তোরাঁর মালিকদের ডেকে বৈঠক করেন। এরপর কিছু রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া গেলেও অনেকে ঢুকতে দেন না।

বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি রাজেন হরিজন জানিয়েছেন, হরিজন সম্প্রদায়ের এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ফিটফাট হয়ে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু কিছু খাওয়ার ইচ্ছা হলেও রেস্তোরাঁয় গিয়ে খেতে পারে না। গোটা জেলাতেই একই অবস্থা।

আমনূরা বাজারের নূরতাজ হোটেল অ্যান্ড মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক মোনতাজ আলী বলেন, এখানকার হোটেলগুলোতে হরিজন-সুইপারদের ঢুকতে দেওয়া হয় না বহুদিন থেকে।

সংবিধানে মানবিক মর্যাদার প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, হরিজনদের সঙ্গে যে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে, তা সংবিধানের মানবিক মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ বৈষম্য দূর হওয়া উচিত।

জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, তিনি জেলার রেস্তোরাঁর মালিকদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করবেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বখতিয়ার আহমেদ বলেন, একটি আধুনিক রাষ্ট্র এমন একটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের সমান সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার থাকবে। সব নাগরিকের যেখানে বিচরণের অধিকার আছে, সেখানে যদি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেউ যেতে না পারেন, তাহলে তা আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের বড় ব্যর্থতা। চাঁপাইনবাবগঞ্জে হরিজনদের রেস্তোরাঁয় বসে খাবার খেতে দেওয়া হচ্ছে না। সমাজ, সংস্কৃতিভেদে যদি এখনো এ ধরনের বৈষম্য থাকে, তবে তা লজ্জার।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন