default-image

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু পৌরসভা নির্বাচনে জোড়াপুকুরিয়া কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর এক কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছেন সন্ত্রাসীরা। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জোড়াপুকুরিয়ার মান্দারতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় সাগর হোসেন (৩৮) নামের নৌকার ওই কর্মীকে প্রথমে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংঘর্ষের পর প্রশাসন মান্দারতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ সাময়িক বন্ধ রাখেন। আধঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আবার ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সেলিম রেজা দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার ৫ নম্বর মান্দারতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সামান্য গোলমালের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন আহত হয়েছেন। এই কারণে আধঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখার পর আবার চালু করা হয়েছে। বর্তমানে স্বাভাবিক পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে।

default-image

হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রথম আলোকে বলেন, কাউন্সিলর প্রার্থী সাইফুল ইসলামের লোকজন সকালে মান্দারতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই হামলা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাতটি ফাঁকা গুলি চালায়।

বিজ্ঞাপন

তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ঝিনাইদহে আজ দুটি পৌরসভার ভোট গ্রহণ চলছে। এ দুটি পৌরসভা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু ও কোটচাঁদপুর পৌরসভা। হরিণাকুণ্ডু পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফারুক হোসেন নৌকা প্রতীকে, আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সাইফুল ইসলাম জগ প্রতীকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জিন্নাতুল হক ধানের শীষ প্রতীকে এবং ইসলামী আন্দোলনের নাসির উদ্দীন হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে মাঠে নেমেছেন।

কোটচাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত শাহাজান আলী নৌকা প্রতীকে, আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী পৌরসভা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক (সদ্য বহিষ্কৃত) মো. সহিদুজ্জামান মোবাইল প্রতীকে, আওয়ামী লীগের আরেক ‘বিদ্রোহী’ জাহিদুল ইসলাম নারকেলগাছ প্রতীক নিয়ে এবং বিএনপির এ কে এম সালাউদ্দীন বুলবুল সিডল ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

default-image

সরেজমিনে সকাল ১০টায় কোটচাঁদপুর পৌরসভার কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায়, ভোটারদের লম্বা লাইন। লাইনে দাঁড়ানো আবদার হোসেন নামের এক ভোটার বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ ভালো। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন।

ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, তাঁর এই কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭৮ ভোটার রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ৪০০ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা পার্শ্ববর্তী কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মতলবুর রহমান বলেন, খুব সুন্দর পরিবেশে কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়াই ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন।

কোটচাঁদপুর সরকারি পাইলট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল লম্বা লাইন। ওই কেন্দ্রে ৩ হাজার ৯১২ ভোট রয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় ৯০০ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা সবিতা রানী নামের এক ভোটার বলেন, তিনি ভোটের পরিবেশ ভালো পেয়েছেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোট দিয়েছেন।

default-image

আরেক কেন্দ্র গাবতলা-মাঠপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা ১১টার দিকে দেখা যায়, প্রায় ৬০০ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এই কেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন ২ হাজার ২১০ জন। প্রিসাইডিং অফিসার সঞ্জয় কুমার বলেন, ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট প্রদান করছেন। সেখানে উপস্থিত কোটচাঁদপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বলেন, এখন পর্যন্ত যেভাবে ভোট হচ্ছে, তাতে বিজয়ের বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী। তবে সাধারণ ভোটাররা সব সময় প্রশ্ন করছেন, শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে কি না।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন