নদদূষণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

নদটি এখন দূষণের কবলে পড়েছে। শহরের নতুন ব্রিজ থেকে ধানহাটা পর্যন্ত নদটিতে প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন ব্রিজের উত্তর পাশে মুরগির দোকান থেকে মুরগির পাখনা, নাড়িভুঁড়ি ফেলা হচ্ছে। পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আর মাছের বাজারের নোংরা আবর্জনা, মাছ হিমায়িত রাখার কর্কশিটের বাক্স নদে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে পুরো নদে কচুরিপানা জমে পানিপ্রবাহ থমকে গেছে। এতে এলাকায় চরম পরিবেশদূষণের সৃষ্টি হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন ব্রিজের নিচে মুরগির পাখনা, নাড়িভুঁড়ি জমে স্তূপ হয়ে রয়েছে। সেখান থেকে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ ছাড়া আশপাশের বাসাবাড়ির আবর্জনাও নদে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। কেশবপুর নতুন ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা চিকিৎসক কামরুল হাসান জানান, গমপট্টির খন্দকার জাকির হোসেনের দোকান থেকে প্রতি রাতেই এখানে মুরগির বর্জ্য ফেলা হয়। তা পচে চরম দুর্গন্ধ বের হয়। দুর্গন্ধে বাড়িতে টেকাই যায় না।

স্থানীয় রাবেয়া ফার্মেসির মালিক রবিউল ইসলাম বলেন, রাত ১১টার পরে ব্রিজের ওপরে করিমন ও ভ্যানে করে ড্রাম থেকে নদে মুরগির নাড়িভুঁড়ি পাখনা ফেলা হয়। নিষেধ করা হলেও তারা শোনে না।

নদের পাড়ের সেলুনের কর্মচারী অর্জুন শীল বলেন, ‘নদের পানির দুর্গন্ধে টেকা দায়। মনে হয় দোকান বন্ধ করে চলে যাই।’ মুদিদোকানি ফারুক হোসেন বলেন, ‘অনেক বারণ করেও কোনো লাভ হয় না বলে কথাই বলে ছেড়ে দিয়েছি।’

এলাকার বাসিন্দারা বলেন, বাজারের কুকুরগুলো নাড়িভুঁড়ি টেনে নদের পাড়ে নিয়ে আসে। তখন আরও দুর্গন্ধ বের হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

অভিযোগের বিষয়ে পোলট্রি দোকানি খন্দকার জাকির হোসেন বলেন, তাঁর লোকদের মুরগির বর্জ্য নদে ফেলে ডুবিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। এভাবে যাতে আর না ফেলা হয়, সে ব্যাপারে তাঁর লোকজনকে নির্দেশ দেবেন বলে জানান।

কেশবপুর পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্সী আসাদুল্লাহ বলেন, নদদূষণ বন্ধ ও কচুরিপানা পরিষ্কারে মেয়রকে বলেছেন। এভাবে নদদূষণ ও ভরাট হতে থাকলে পুনরায় বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন। ইউএনও এম এম আরাফাত হোসেনও বলেন, এ বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন