বিজ্ঞাপন

গত সোমবার সরেজমিনে ইসমাইলের তরমুজখেতে দেখা যায়, মাচায় ঝুলে আছে অসংখ্য হলুদ তরমুজ। বাড়ন্ত তরমুজের ভারে গাছ যাতে নিচে পড়ে না যায়, সে জন্য তরমুজগুলোকে নেটের ব্যাগ দিয়ে মাচার সঙ্গে বেঁধে দিচ্ছেন ইসমাইল। এ সময় ইসমাইল প্রথম আলোকে বলেন, নতুন জাতের এ তরমুজ চাষ করে তিনি খুবই লাভবান। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে দুই মাস আগে খেতে তরমুজ লাগিয়েছিলেন।

ইতিমধ্যেই তিনি এক লাখ টাকার বেশি তরমুজ বিক্রি করেছেন। এ মৌসুমে আরও ৫০ হাজার টাকার তরমুজ তিনি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

ইসমাইল বলেন, হলুদ জাতের এ তরমুজ আকারে একটু ছোট হলেও ওজনে বেশি। ভেতরে টুকটুকে লাল। খেতেও সুস্বাদু। এ মৌসুমে গরম বেশি পড়ায় আর রোজা থাকায় তরমুজের চাহিদাও বেশি। তরমুজ নিয়ে তাঁকে বাজারেও যেতে হচ্ছে না। খেত থেকেই তিনি তরমুজ বিক্রি করে দিচ্ছেন। আকারভেদে প্রতিটি তরমুজ তিনি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন। এলাকায় প্রথমবারের মতো তাঁর চাষ করা হলুদ তরমুজ বেশ সাড়া ফেলেছে। হলুদ জাতের এ তরমুজ দেখতে দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিন লোকজন তাঁর জমিতে আসছেন। অনেকে নিজেদের ও আত্মীয়স্বজনদের জন্য তরমুজ কিনেও নিচ্ছেন।

default-image

ইসমাইল বলেন, তাঁর এ তরমুজ চাষের সফলতা দেখে বন্ধুবান্ধবসহ এলাকায় অনেক শিক্ষিত বেকার তরুণ এখন কৃষিতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। তাই তিনিও আর চাকরির পেছনে দৌড়াবেন না বলে মনস্থির করেছেন। এখন থেকে কৃষির নতুন নতুন উদ্ভাবনী জাত নিয়ে তিনি চাষাবাদে আরও মনোযোগী হবেন।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হামিমুল হক বলেন, শিক্ষিত বেকার তরুণদের জন্য ইসমাইল একটি উদাহরণ। মাত্র ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়। দুই মাসেই দেড় লাখ টাকার মতো আয়। যেটা চাকরিতে সম্ভব না। কাজেই চাকরির পেছনে বৃথা সময় ব্যয় না করে যদি কৃষিকাজে শিক্ষিত তরুণেরা এগিয়ে আসেন, তাহলে নিজে স্বাবলম্বীসহ দেশেরও উন্নয়ন হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন