বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হল সূত্রে জানা যায়, বেলা একটার দিকে হলের ডাইনিংয়ে এক শিক্ষার্থীর খাবারে ‘কটন বাড’ পাওয়ার অভিযোগ তুলে হল শাখা ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তাঁরা হলের গেটে তালাও লাগিয়ে দেন। পরে তাঁদের সঙ্গে অন্য হলের নেতা-কর্মীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। এ সময় তাঁরা হল প্রাধ্যক্ষ সুজন সেনের পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেন।

তবে বিক্ষোভের সময় খাবারে কটন বাড পাওয়ার অভিযোগকারী কোনো শিক্ষার্থীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরাও তাঁর সন্ধান দিতে পারেননি। তবে সাংবাদিকদের কাছে ডাইনিংয়ের একাধিক কর্মচারীর দাবি, খাবারে এ রকম কিছু পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, ৮ ফেব্রুয়ারি শহীদ জিয়াউর রহমান হলে সিট বরাদ্দের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে হলে অবস্থানকারী অনেক অনাবাসিক ছাত্রলীগ নেতার কক্ষেও নতুন করে শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর গত কয়েক দিনে হল প্রশাসন ছাত্রলীগ নেতাদের মাধ্যমে হলে ওঠা কয়েকজন অনাবাসিক ছাত্রলীগ কর্মীকে সিট থেকে নামিয়ে আবাসিক ছাত্রদের তুলে দেয়। এসব বিষয় নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

পরে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ঘটনাস্থলে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া উপস্থিত হন। বিকেল চারটায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রশাসন প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রলীগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় বসে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা মো. তারেক নূর, প্রক্টর আসাবুল হক, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ সুজন সেন, রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। হল প্রাধ্যক্ষের কক্ষে আলোচনার বাইরে থেকে ছাত্রলীগ নেতাদের উঁচু স্বরে কথা শোনা যায়। বিকেল পাঁচটার দিকে বৈঠক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বেরিয়ে আসেন।

সিট বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি এড়িয়ে এ বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ছাত্ররা হলের ডাইনিংয়ে খাবারের মান বৃদ্ধি, ওয়াই-ফাই সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে মূলত হল শাখা ছাত্রলীগ তাঁদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে। আমি বলেছি, যদি এসব দাবি নিয়ে কোনো দৃশ্যমান উন্নতি না হয় এবং শিক্ষার্থীরা আবার আন্দোলন করে, তবে ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করবে।’

মুঠোফোনে প্রক্টর আসাবুল হক বলেন, ‘হল গেটে ঝামেলা হওয়ায় প্রক্টর হিসেবে সেখানে গিয়েছিলাম। পরে ছাত্রলীগ হল প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছে, তবে সে সময় আমিও ছিলাম। তারা খাবারের মান, ওয়াই-ফাই সমস্যা এবং সিট বরাদ্দ নিয়ে কিছু ঝামেলার কথা বলেছে। সিট বরাদ্দের বিষয়গুলো রিভাইজ করে ঠিক করা হবে।’

তবে সার্বিক বিষয়ে জানার জন্য হল প্রাধ্যক্ষ সুজন সেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন