বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শুনানি নিয়ে গত বছরের ৫ অক্টোবর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ অন্তবর্তীকালীন আদেশ দেন। রুলে নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে রক্ষায় ও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অবহেলায় বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও থানাটির অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা ঘটনার ভিডিও সিডি বা অন্য কোনো মাধ্যমে রেখে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ওই নারীকে ৩২ দিন আগে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানকার স্থানীয় ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণে পুলিশ প্রশাসনের কোনো অবহেলা আছে কি না, তা অনুসন্ধান করতে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন আদালত। একই বছরের ২৯ অক্টোবর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

আদালতে গণমাধ্যমের খবর নজরে আনা আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। ওই মামলায় ব্যাখ্যাকারী হিসেবে পক্ষভুক্ত আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে আইনজীবী অনীক আর হক শুনানি করেন। নিজ এলাকা বেগমগঞ্জ উল্লেখ করে আইনজীবী রাশিদা চৌধুরী শুনানিতে অংশ নেন।

আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, স্বতঃপ্রণোদিত রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। রুল শুনানিতে ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহেলার বিষয়টি এসেছে। হাইকোর্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। যেকোনো দিন রায় দেওয়া হবে।

তদন্ত প্রতিবেদনে যা বলা হয়

নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিষয়টি আকস্মিক নয় বলে দেখা গেছে। পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ নারকীয় ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যাতে ভুক্তভোগী নারী তাঁর স্বামীর ঘরে ফিরে যেতে না পারেন। ভিডিও ধারণ ছিল মূলত ভুক্তভোগীকে জিম্মিকরণের একটি জঘন্য ও নৃশংস প্রক্রিয়া। ঘটনা বিশ্লেষণে তদন্ত কমিটি মনে করে, ঘটনার মাস্টারমাইন্ড দেলওয়ার। তিনি আড়াল হতে তাঁর অনুগত বাদল, কালাম গংকে ব্যবহার করেন।
ভুক্তভোগীর স্বামীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্ত্রাসীদের প্রায় সবাই ভুক্তভোগীর স্বামীর পরিচিত (স্বামীর লিখিত ভাষ্যে), ঘটনার পর থেকে তিনি ভুক্তভোগীর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করেননি। ঘটনাসংক্রান্ত বিষয়ে সব অবগত থাকা সত্ত্বেও কাউকে কিছু জানাননি এবং ঘটনার বিচার দাবি করে কোনো পদক্ষেপ নেননি। ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগীর স্বামীর অবস্থান সন্দেহজনক বলে দেখা গেছে। তাঁকে আদালতের নির্দেশনায় আইনের আওতায় এনে ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা যাচাই করা যায় বলে কমিটি যুক্তিযুক্ত মনে করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বেগমগঞ্জ থানা–পুলিশের দুজন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান ও মফিজুল ইসলাম (ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তা) ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। তাঁদের বক্তব্য যুক্তিসংগত ও গ্রহণযোগ্য নয়। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি হারুন অর রশিদ চৌধুরীর বিটভিত্তিক কর্মকর্তাদের কার্যক্রম তদারিকতে শৈথিল্য পরিলক্ষিত হয়। তাঁর বিরুদ্ধেও আদালত কর্তৃক যৌক্তিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

বেগমগঞ্জ সার্কেল এএসপি মো. শাহজাহান শেখের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনে পেশাদারি ও দক্ষতা প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে কমিটি মনে করে। বলা হয়, তিনি ঘটনা সম্পর্কে জানেন না বলে যে দাবি করেন, তা গ্রহণযোগ্য ও যুক্তসংগত নয়। তাঁর বিষয়েও আদালত কর্তৃক যৌক্তিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন তাঁর সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। এলাকার চৌকিদার তাঁর দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। একলাশপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম ভূঞা জবানবন্দিতে ২ সেপ্টেম্বর ঘটা ওই ঘটনার এক মাস পার হলেও অবগত নন বলে দাবি করেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন