অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢলে পশ্চিম বেলাগাঁওসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ২০ থেকে ২৫ দিন ধরে প্লাবিত। গতকাল রোববার রাতে তুমুল বৃষ্টির মধ্যে হাকালুকি হাওরে স্থানীয় বেশ কিছু জেলে জাল টেনে মাছ ধরছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে জেলেরা দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ১৫ থেকে ২০ জন অপরিচিত লোককে পশ্চিম বেলাগাঁও গ্রামের দিকে যেতে দেখেন। এ সময় ডাকাডাকি করলেও তাঁরা সাড়া দেননি। এতে জেলেদের সন্দেহ হয়। এর কিছু সময় পর দুটি নৌকা অন্য দিকে চলে যায়। পরে জেলেরা মুঠোফোনে বিষয়টি এলাকার লোকজনকে জানিয়ে দেন। দ্রুত খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে পশ্চিম ও বেলাগাঁও এবং কণ্ঠিনালা গ্রামের মসজিদের মাইকে ‘এলাকায় ডাকাত ঢুকেছে’ বলে সতর্ক করা হয়।

রাত ১টার দিকে জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ কণ্ঠিনালা সেতু এলাকায় যান। পরে নৌকায় করে তারা আশপাশের এলাকায় কয়েক দফায় টহল দেন।

জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কাশেম আজ সোমবার সকালে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, হাওরে মাছ ধরার সময় জেলেরা দুটি নৌকায় অপরিচিত কিছু মানুষ দেখেন। হাওরের ফেঞ্চুগঞ্জের আশিঘর এলাকা থেকে দুটি নৌকা আসছিল। জেলেদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে রাতভর এলাকাবাসীকে নিয়ে পুলিশ টহল দিয়েছে।

জুড়ী থানার ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তী মুঠোফোনে বলেন, দুটি নৌকা দেখে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে রাতে টহল দিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ওসি বলেন, সাধারণত এ সময় চুরি-ডাকাতি বাড়তে পারে। টহলের জন্য হাওর এলাকায় পুলিশের তিনটি নৌকা আছে। সেগুলো নিয়মিত টহল দেয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন