ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এবার সুনামগঞ্জে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জের নিকলী, অষ্টগ্রাম, করিমগঞ্জ, তাড়াইল ও ইটনা; নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বেশ কিছু হাওরের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে একটি মহল ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম দেখানোর চেষ্টা করছে বলে ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার হাওর বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনের এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জে ৩১টি হাওরের প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমির ক্ষতি হয়েছে। এখনো হাওর ডুবছে, তাই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, এ পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ১৯টি হাওরে ফসলের ক্ষতি হয়েছে ৫ হাজার ৭৫৬ হেক্টর। প্রায় ১৯ হাজার কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জে এ মৌসুমে ১৩৭টি হাওরে বোরো আবাদ হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ হেক্টর। জেলায় আজ সকাল পর্যন্ত ধান কাটা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮১৯ হেক্টর, যা মোট ধানের ৭২ শতাংশ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকায় সুবিধা হচ্ছে। শ্রমিকদের সঙ্গে মাঠে ৫৯২টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ১০৮টি রিপার কাজ করছে। যে কারণে দ্রুত ধান কাটা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জে এবার প্রথম দফা পাহাড়ি ঢল আসে ৩০ মার্চ। এতে জেলার নদ-নদী ও হাওরে ব্যাপক পরিমাণে পানি বৃদ্ধি পায়। ঝুঁকিতে পড়ে জেলার সব হাওরের বোরো ধান। একের পর এক বাঁধ ভেঙে ও বাঁধ উপচে হাওরে ঢলের পানি প্রবেশ করতে থাকে। এখনো অনেক হাওরের ধান ঝুঁকিতে আছে। এ অবস্থায় আতঙ্কের মধ্যেই কৃষকেরা হাওরে ধান কাটছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন