default-image

হাওরে বাঁধের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে জমির ফসল নিয়ে কৃষকদের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। এবার বাঁধের কাজের শুরু থেকেই ঢিলেমি ও গাফিলতি দেখা যাচ্ছে। তাই কারও অবহেলা, গাফিলতির কারণে যদি হাওরে ফসলের কোনো ক্ষতি হয়, এর দায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও প্রশাসনকে নিতে হবে।

সুনামগঞ্জে নির্ধারিত সময়ে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’ সংগঠনের নেতারা এসব কথা বলেন। সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারে এ মানববন্ধন হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার লোকজন অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের সব কাজ শেষ হওয়ার কথা ২৮ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু এখনো কাজ শেষ হয়নি। বারবার বলার পরও কাজে গতি আসছে না। রয়েছে সঠিক তদারকির অভাব। এ অবস্থায় হাওরের ফসল নিয়ে তাঁরা চিন্তিত। বক্তারা আরও বলেন, সরকার প্রতিবছর বাঁধ নির্মাণে শতকোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু যথাযতভাবে কাজ হয় না। পাউবো ও প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহল কাজে নানাভাবে অনিয়ম করে। অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) টাকার অভাবে কাজ করতে পারছে না। বরাদ্দ নিয়েও বিভিন্ন প্রকল্পে নয়ছয় হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আয়োজক সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘পাউবো আর আমাদের হিসাবে মিল নেই। তারা বলছে, বাঁধের কাজ ৯০ ভাগ শেষ। এটা তাদের মনগড়া কথা। আমাদের পর্যবেক্ষণ হলো, এখন পর্যন্ত বাঁধের কাজ ৫০ থেকে ৫৫ ভাগের ওপরে হয়নি। আমরা চাই যেকোনো মূল্যে কৃষকেরা যেন তাঁদের ফসল নির্বিঘ্নে গোলায় তুলতে পারে। তাই বাঁধের কাজে কোনো অনিয়ম, গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না।’

আয়োজক সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহীন চৌধুরীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়, উপদেষ্টা শীলা রায়, রমেন্দ্র কুমার দে ও বিকাশ রঞ্জন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মল ভট্টাচার্য ও এ কে কুদরত পাশা, সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল করিম, সদর উপজেলার শাখার সাধারণ সম্পাদক শহীদ নূর আহমেদ, তাহিরপুর উপজেলা শাখার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুল কিবরিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মুসা আহমদ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা শাখার সহসভাপতি সাজ্জাদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি নুরুল গনি, সাধারণ সম্পাদক হাসান বশির, জামালগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি শাহানা আল আজাদ, সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন পুরকায়স্থ প্রমুখ।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেছেন, বাঁধের কাজ প্রায় শেষ। বাকি কাজও তিন-চার দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত যে কাজ হয়েছে তাতে স্বাভাবিক আগাম বন্যা এলে ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না। কাজে কোনো অনিময় বা গাফিলতি হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

সুনামগঞ্জ পাউবো সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলার ১১টি উপজেলার হাওরে ৮১১ প্রকল্পে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ হচ্ছে। এ জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৩৩ কোটি টাকা। প্রতিটি প্রকল্পে কাজ করে একটি পিআইসি। একটি পিআইসি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার কাজ করতে পারে।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন