পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী দুপুরে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করেন। এর আগে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর রিভারভিউ এলাকায় হাওরে রওনা দেওয়ার আগে হাওর পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, ‘এখানে মিডিয়ার ভাইদের একটা দায়িত্ব আছে। আপনারা যদি এখন ফুলায়ে-ফাঁপায়ে অন্যভাবে রিপোর্ট করেন, তাহলেই অসাধু ব্যবসায়ীরা এটার সুযোগ নিয়ে চালের দাম বাড়িয়ে দেবে। এ ধরনের দুর্যোগ আসতেই পারে, দুর্যোগ আমরা মোকাবিলা করছি। এখানে জেলা প্রশাসক আছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আছেন; সবাই মিলে ২০ দিন ধরে মাঠে কাজ করছেন। আমি একেকজনের চেহারা দেখে আশ্চর্য হয়ে গেছি। যাঁদের গায়ের রং ফরসা ছিল, তাঁরাও কালো হয়ে গেছেন।’

সেখানে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (উত্তর-পূর্বাঞ্চল) এস এম শহিদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রতিমন্ত্রী সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করেন। প্রতিমন্ত্রী বৃহস্পতিবার জেলার দিরাই উপজেলায় আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করবেন।

সুনামগঞ্জে এবার প্রথম দফা পাহাড়ি ঢল নামতে শুরু করে ৩০ মার্চ। এতে জেলার নদ-নদী ও হাওরে ব্যাপক পরিমাণে পানি বৃদ্ধি পায়। ঝুঁকিতে পড়ে জেলার সব হাওরের বোরো ধান। এ পর্যন্ত একের পর এক হাওরের বাঁধ ভেঙে ও বাঁধ উপচে ঢলের পানি ঢুকে ১৭টি ছোট–বড় হাওর ও বিলের ৫ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। তবে স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। প্রথম দফা পাহাড়ি ঢলের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার দ্বিতীয় দফায় ঢল নামতে শুরু করেছে।

সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলায় ধান কাটা হয়েছে ৮৪ হাজার ৭৪৮ হেক্টর জমির। জেলায় এবার ১৩৭টি ছোট-বড় হাওরে ২ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন