শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ডাকে সাড়া দিয়ে স্বেচ্ছাসেবকেরা রোদ উপেক্ষা করে কৃষকদের ধান কেটে দিতে নেমেছেন মাঠে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হাজিপুর হাইল হাওরসংলগ্ন এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ডাকে সাড়া দিয়ে স্বেচ্ছাসেবকেরা রোদ উপেক্ষা করে কৃষকদের ধান কেটে দিতে নেমেছেন মাঠে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হাজিপুর হাইল হাওরসংলগ্ন এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার সকালেছবি: প্রথম আলো

চলতি সপ্তাহে সিলেট অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা থাকায় হাওর অঞ্চলের বোরো ধান দ্রুত ঘরে তুলতে কৃষকদের সহায়তায় মাঠে নেমেছেন একদল স্বেচ্ছাসেবক। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ডাকে সাড়া দিয়ে স্থানীয় কৃষক, বিভিন্ন সংগঠন, যুবকেরা প্রখর রোদ উপেক্ষা করে কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছেন।

আজ বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হাজিপুর গ্রামের হাইল হাওরসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। এর আগে হাওর অঞ্চলের কৃষকদের সাহায্যের জন্য ফেসবুকে বিজ্ঞপ্তি দেন ইউএনও।

আজ সকালে এই ধান কাটার উদ্বোধন করেন শ্রীমঙ্গলের ইউএনও নজরুল ইসলাম।

সরেজমিনে দেখা যায়, শতাধিক মানুষ হাতে কাস্তে নিয়ে ধান কাটছেন। আজ সকালে এই ধান কাটার উদ্বোধন করেন শ্রীমঙ্গলের ইউএনও নজরুল ইসলাম। উদ্বোধনের পর প্রায় দুই ঘণ্টা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ধান কাটেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেছার উদ্দীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি প্রমুখ। স্বেচ্ছাশ্রমে ধান কাটতে আসা সবাই প্রখর রোদ উপেক্ষা করে ধান কাটেন। তাঁদের দুই ঘণ্টার পরিশ্রমে নিমেষেই মাঠের ধানগুলো কাটা হয়ে যায়। পরে তাঁরা ধানগুলো বেঁধে কৃষকদের বাড়িতে দিয়ে আসেন।

default-image

কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শুনেছি বৃষ্টিপাত হবে। খুব চিন্তায় পড়েছিলাম। হাতে টাকা নেই। সময়ও নেই যে এত দ্রুত ধান কেটে ফেলব। আজ দেখি অনেকেই হাতে কাস্তে নিয়ে আমার জমিতে এসেছেন। তাঁরা বলছেন ধান কেটে দেবেন। খুব দ্রুত সময়ে আমার ধানগুলো তারা কেটে দিলেন। আমার খুব উপকার হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বছর শ্রীমঙ্গলে ৯ হাজার ৬৫২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর অঞ্চলের নিচু জায়গায় ৩ হাজার ৭ শত ২৭ হেক্টর জমি রয়েছে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত হিসাবমতে, ইতিমধ্যে ১ হাজার ৪৯৯ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। আমরা কৃষকদের কাছে অনুরোধ করছি, দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলুন।’

default-image

ইউএনও নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আবহাওয়া অফিস থেকে খবর পেলাম, চলতি সপ্তাহে সিলেট অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে হাওর অঞ্চলের ৮০ থেকে ১০০ ভাগ ধান পেকে গেছে। এখন হঠাৎ যদি ভারী বৃষ্টিপাত হয়, তাহলে এই পাকা ধানগুলো পানির নিচে পড়ে নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা কৃষি অফিসের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলাম, আমরা যদি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কৃষকদের কাছে গিয়ে এই ধানগুলো কেটে দিয়ে আসি, তাহলে তাঁদের অনেক উপকার হবে। এরপর বুধবার আমরা উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজ থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে ধান কাটার জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি দিই। বিভিন্ন সংগঠন ও আমাদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজে থেকেই এখানে চলে এসেছেন। স্থানীয় কৃষকেরাও এসেছেন। আমরা সবাই মিলে ধান কাটা শুরু করি। এভাবে আগামী কয়েক দিন বিভিন্ন জায়গায় আমাদের এই স্বেচ্ছাশ্রমে ধান কাটা চলবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন