বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালা বাদশাপাড়া জামে মসজিদ ও তালিমুল কোরআন নুরানী মাদ্রাসা পরিচালনা ও সংস্কারকাজের জন্য আয়–ব্যয়ের হিসাব নিয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর মধ্যে গতকাল এশার নামাজের আগে ওই এলাকায় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর ১০–১৫ জন দুর্বৃত্ত অস্ত্র, লাঠি, রামদা নিয়ে কুয়েতপ্রবাসী দুই ভাইকে এলোপাতারি কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

এরপর স্থানীয় লোকজন আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে প্রথমে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাত নয়টার দিকে তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথেই হোসাইন এলাহীর মৃত্যু হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হোসাইন এলাহী ও মোমেন শাহ দুজনেই দীর্ঘদিন কুয়েতে ছিলেন। তবে করোনা পরিস্থিতিতে তাঁরা দেশে আসার পর আটকা পড়েন। শিগগিরই দুজনেই আবার কুয়েতে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রবাসী দুই ভাইয়ের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধ চলে আসছিল। মসজিদের নিয়ন্ত্রণের জেরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।
মুহাম্মদ আকতার হোসেন, মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান

তাঁদের আরেক ভাই মুহাম্মদ মহসিন সৌদি আরবপ্রবাসী। তিনিও ছুটিতে দেশে এসেছেন। তিনি বলেন, মসজিদ ও মাদ্রাসার যাবতীয় খরচে তাঁদের পরিবার সহায়তা করে থাকে। আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়ায় প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর দুই ভাইকে কুপিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কালা বাদশাপাড়া তালিমুল কোরআন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ আবদুস সালাম আজ শনিবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, নিহত হোসাইন এলাহী ও তাঁর ভাইয়েরা মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনায় বিভিন্ন সময় আর্থিক সহায়তা করেন। সম্প্রতি তাঁরা মসজিদ ও মাদ্রাসার সংস্কারকাজের ১০–১২ লাখ টাকার আয়–ব্যয়ের হিসাব চেয়েছিলেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন এ হামলা চালাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কালা বাদশাপাড়া জামে মসজিদ ও তালিমুল কোরআন নুরানী মাদ্রাসা পরিচালনা ও সংস্কারকাজের জন্য আয়–ব্যয়ের হিসাব নিয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আকতার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রবাসী দুই ভাইয়ের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধ চলে আসছিল। মসজিদের নিয়ন্ত্রণের জেরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।

জানতে চাইলে হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম শনিবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, নিহত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে পুলিশ হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন