দুই প্রার্থীর অভিযোগ, তফসিল অনুযায়ী তাঁরা ১০ ও ১১ মে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের জন্য নিযুক্ত আইনজীবীর প্রতিনিধিকে পাঠান। কিন্তু সেখানে হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর নির্দেশে সন্ত্রাসীদের বাধায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। সাবেক সংসদ সদস্যের অনুসারী ছাড়া কাউকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে দেওয়া হচ্ছে না। একইভাবে ওই দুই ইউপির সদস্য পদের প্রার্থীদেরও মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আমিরুল ইসলাম ও মুসফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁদের আইনজীবীর মোহরার মো. হৃদয়, হরণী ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যপ্রার্থী নাছির উদ্দিন খোন্দকার, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সালাউদ্দিন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আলমগীর হোসেন, ২ নম্বর ওয়ার্ডের নিজাম উদ্দিন হামলা ও বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে উপজেলা পরিষদের সামনে সালাউদ্দিনের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

দুই প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাঁরা ১১ মে নির্বাচন কমিশনে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন থেকে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সবই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। অভিযোগকারী আমিরুল ইসলাম ও মুসফিকুর রহমান হরণী ও চানন্দি ইউপির চিহ্নিত সন্ত্রাসী। আমিরুল ইসলাম ইতিপূর্বে র‍্যাবের হাতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ছাড়া মুসফিকের সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে চরাঞ্চলের মানুষ জিম্মি। তাঁরা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে জিততে পারবেন না বুঝতে পেরে নানা অপপ্রচার শুরু করেছেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর কার্যালয়ে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বাইরে কোথায়ও কোনো সমস্যা হয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। তাঁর কার্যালয়ে ইতিমধ্যে পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থা করা হয়েছে। অভিযোগকারী আমিরুল ইসলামের পক্ষে এক ব্যক্তি ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, হাতিয়ায় ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী ব্যক্তিদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর (জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার) কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রার্থীরা চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম সংগ্রহ করে জমা দিতে পারবেন। এ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব ধরনের পদক্ষেপই নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, নদীভাঙন ও সীমানা বিরোধের কারণে প্রায় ৩০ বছর পর হাতিয়ার হরণী ও চানন্দি ইউপি নির্বাচন আগামী ১৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন