বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবদুর রাজ্জাক জানান, গত ৯ নভেম্বর গারো পাহাড়ের সীমান্তঘেঁষা মালাকোচা এলাকায় একটি মরা হাতি উদ্ধার করেন বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে মালাকোচা গ্রামের মো. আমির উদ্দিন, সমেজ উদ্দিন, মো. আশরাফুল ও শাহজালালের সবজিবাগানের সঙ্গে সংযোগ দেওয়া বৈদ্যুতিক জিআই তারের সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাতিটি মারা যায় বলে সত্যতা পাওয়া যায়। পরে বন বিভাগ, শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে গত ১৮ নভেম্বর ২০১২ সালের বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের ৩৬-এর(১) ধারায় আমির উদ্দিন, সমেজ উদ্দিন, মো. আশরাফুল ও শাহজালালের বিরুদ্ধে শেরপুরের বন আদালতে হত্যা মামলা করেন। হাতি মৃত্যুর ঘটনায় জেলায় এটিই প্রথম হত্যা মামলা বলে জানান বন বিভাগের এই কর্মকর্তা।

মামলার আসামি সমেজ উদ্দিন ও শাহজালাল আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলেও এখনো অন্য দুই আসামি আমির উদ্দিন ও আশরাফুল পলাতক। তাঁদের বিরুদ্ধে বন আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের ৩৬–এর(১) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কোনো বাঘ বা হাতি হত্যা করলে অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে। এই অপরাধ জামিন অযোগ্য। তিনি সর্বনিম্ন ২ বছর এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ১ লাখ ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে শর্ত থাকে, বাঘ বা হাতির দ্বারা কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত হলে এবং ফলে জীবনাশঙ্কার সৃষ্টি হলে জীবন রক্ষার্থে আক্রমণকারী বাঘ বা হাতিকে হত্যার ক্ষেত্রে এই ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে না।

বালিজুড়ীর রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, নির্বিচার বনভূমি দখল করে চাষাবাদ করায় হাতি লোকালয়ে এসে পড়ছে। তাঁরা অনেক চেষ্টা করেও কোনো সমাধান করতে পারছেন না। হাতি হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শেরপুর জেলায় প্রথম হত্যা মামলা করে বন বিভাগ।

উল্লেখ্য গত ১৮ নভেম্বরের প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে এ বিষয়ে ‘শ্রীবরদী সীমান্তে হাতির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন