শরীফার মা মাফিয়া আক্তার বলেন, ‘শরীফার প্রসব ব্যথা শুরু হলে আবুল কাশেমকে খবর দেওয়া হয়। তিনি রোগীকে দেখে জানান সবকিছু স্বাভাবিক আছে, কোনো সমস্যা নাই। আমরা নেত্রকোনা নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তাঁর কথায় ভরসা পেয়ে আর নেইনি। আমরা সাধারণ মানুষ। ডাক্তারের কথা মতোই সব করেছি। পরে সন্তান বের করানোর সময় ওই জায়গায় কিছুটা কাটা হয়। কিন্তু ডাক্তারের সঙ্গে ওষুধ স্যালাইন না থাকায় এগুলো আনতে একজনকে মোহনগঞ্জ পাঠানো হয়। ওষুধ নিয়ে আসার আগেই শরীফার মৃত্যু হয়।’

শরীফার চাচা গিয়াস উদ্দিন বলেন, আবুল কাশেম একজন পশু ডাক্তার। তবে মাঝেমধ্যে মানুষের চিকিৎসাও করেন। এই ভরসায় তাঁকে বাড়িতে ডেকে আনেন তাঁরা।

বারহাট্টার সিংধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিম তালুকদার বলেন, আবুল কাশেম একজন পশুর চিকিৎসক। এভাবে না জেনেবুঝে প্রসূতির সন্তান বের করা তাঁর ঠিক হয়নি। এটা তিনি অন্যায় করেছেন।

পশুচিকিৎসক আবুল কাশেম গতকাল রাত ১১টার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি প্রসূতির সন্তান প্রসব করাতে চাইনি। পরিবারের সদস্যরাই আমাকে জোর করে এই কাজ করিয়েছেন। এপিসিওটমি করার পর ওষুধ ও সেলাই আনতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আনতে দেরি হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তপাতে এ ঘটনা ঘটেছে।’ তিনি জানান, পশু চিকিৎসার পাশাপাশি মানুষের চিকিৎসার বিষয়ে তিনি কোর্স সম্পন্ন করেছেন। তাঁর এ–সংক্রান্ত সনদ আছে বলে তিনি দাবি করেন।

নেত্রকোনা সদরের মা, শিশুস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের চিকিৎসক কৃপা পাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘এপিসিওটমি করা হলে সাধারণত প্রসূতির মৃত্যু হওয়ার কথা নয়। কিন্তু অদক্ষ, অপ্রতিষ্ঠানিক লোক দিয়ে ডেলিভারি করানোর ফলে প্রসূতি ও নবজাতকের জীবন খুবই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। বারহাট্টায় ওই প্রসূতিকে যদি সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে এসে চিকিৎসক বা মিডওয়াইফ বা নার্স দিয়ে প্রসব করানো হতো, তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মা ও নবজাতকের জীবনহানির ঘটনা ঘটত না। এ বিষয়ে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে।’

বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুল হক আজ বৃহস্পতিবার সকালে বলেন, বিষয়টি শুনে গতকাল রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ব্যবস্থা নিতে পারেনি পুলিশ। এরপরও ঊধ্বর্তনদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সি প্রথম আলোকে বলেন, ওই চিকিৎসককে আটক করে আইনের আওতায় আনতে থানা–পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন