বিজ্ঞাপন

সারা দিন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের ঝোপঝাড়ে ঘুরে ঘুরে চাম ঘাস সংগ্রহ করেন সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন তিনি। রাতভর ঘাস ধুয়েমুছে আঁটি করে বাঁধেন। এরপর খুব ভোরে কাঁধে ঘাসের আঁটি নিয়ে বের হন। ট্রেন অথবা বাসে চড়ে রওনা দেন ৩০ কিলোমিটার দূরের দিনাজপুরের চিরিরবন্দর বাজারে। এই এলাকার মানুষ শাক হিসেবে চাম ঘাস খেতে পছন্দ করেন। তাই এই বাজারে ভালো দামের আশায় ছুটে আসেন মতিয়ন।
মতিয়ন জানান, প্রতি আঁটি ঘাস ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি করেন। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকার বিক্রি হয়। গ্রামের ঝোপঝাড় ও পরিত্যক্ত জায়গায় বিশেষ এই ঘাস পাওয়া যায়। সপ্তাহের ৪-৫ দিন ওই ঘাস সংগ্রহ ও বিক্রি করেন। আর বাকি দিন নিজেকে বিশ্রাম দেন।

ঘাস বিক্রি করে তাহলে ভালো টাকাই পান, এমন প্রশ্নের জবাবে মতিয়ন মুচকি হেসে বলেন, ‘সেটা পাই। কিন্তুক খাটনি আছে সোনা। খরচও আছে। করোনাত লকডাউনোত সউগ বন্ধ। কিন্তুক মুই ঘরোত বন্ধ থাকো না। মুই বন্ধ থাকলে চাইরটা প্যাট বন্ধ হয়া যায়। ঘাস বেচেয়া জীবন চলাওচো। কারও গোড়োত হাত পাতো না।’

মতিয়ন নেছার জীবনে অনেক কোরবানির ঈদ এসেছে। কিন্তু সামর্থ্য নেই বলে কখনো কোরবানি দেওয়া হয়নি। তাই মুরগি জবাই করেই নিজেকে সান্ত্বনা দেন তিনি। এবারের ঈদেও মতিয়নের একই পরিকল্পনা। সহজাত হাসি নিয়েই বললেন, ‘হামরা তো গরিব মানুষ। বোল্ডার মুরগি কোরবানি দেম।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন