default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ইসলামী ছাত্র খেলাফতের কেন্দ্রীয় সহকারী দাওয়া সম্পাদক আশরাফ আলী (২৮)। শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাকিবুল ইসলাম তাঁর জবানবন্দি নথিভুক্ত করেন। জবানবন্দিতে আশরাফ বলেছেন, সেদিন মাইকিং করে লোকজন জড়ো করে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়।

আশরাফ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অষ্টগ্রামের ইছা মিয়ার ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা ইসলামী ছাত্র খেলাফতের সহসভাপতিও।

বিজ্ঞাপন

আশরাফের জবানবন্দির বরাত দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, গত ২৭ মার্চ শহর থেকে প্রায় সাত-আট কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের নন্দনপুর এলাকায় হেফাজতের নেতা–কর্মী-সমর্থক ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। বেলা সাড়ে তিনটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে সংঘর্ষ। তার আগে আশরাফ মিছিল নিয়ে নন্দনপুর বাজারে আসেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হলে তিনি মাইক হাতে বের হন। মাইকিং করে লোকজন জড়ো করেন আশরাফ। ২৬ মার্চ ঢাকার বায়তুল মোকাররম ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ঘটনার প্রতিবাদে আশরাফ মিছিল নিয়ে যান। পরে তিনি মাইকিং করে লোকজনকে জড়ো করেন।

পুলিশ বলছে, ওই দিন নন্দনপুরে সংঘর্ষের সময় হেফাজতের কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালান। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় ৩১ মার্চ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহরাব হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়। হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে আশরাফকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশের ওপর হামলার দায় স্বীকার করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার বিকেলে তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের বিচারক রাকিবুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় আশরাফের জবানবন্দি নথিভুক্ত করেন।

পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আশরাফকে র‌্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা গ্রেপ্তার করেন। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে সদর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর, ঢাকার বায়তুল মোকাররম ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ঘটনার জের ধরে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব চলে। ওই তিন দিনে এখানে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা চালান মাদ্রাসাছাত্র, শিক্ষক এবং হেফাজতের নেতা ও কর্মী-সমর্থকেরা। এসব ঘটনায় মোট ৫৬টি মামলা দায়ের হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন