বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সোমবারের মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও শাস্তির দাবিতে নানা স্লোগান দেন। পরে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে বিএমএর সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ও স্বাচিবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ একাত্মতা প্রকাশ করেন।

গতকাল রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের মসজিদের সামনের রাস্তার ওপর ক্রিকেট খেলছিলেন। মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা সেখানে তাঁদের খেলতে নিষেধ করায় উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উভয় প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা সংঘটিত হয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এ সময় অধ্যক্ষের বাসভবন, মেইন গেটসহ বিভিন্ন ভবনের থাই গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ৫ পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

গুরুতর আহত সায়েম (২২), সরোয়ার (২৩), সাফিক (২০) ও সাখাওয়াত হোসেনকে (২০) গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচটি টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। রাত পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ জাকির হোসেন বলেন, মেডিকেল কলেজের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূচনা হয়। মেডিকেল কলেজের মাঠে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্রিকেট খেলে থাকেন। এ সময় মাঠের পাশ দিয়ে মেডিকেল ছাত্রীরা গেলে তাঁদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা নানা মন্তব্য করেন। যে কারণে ওই মাঠে ক্রিকেট খেলতে নিষেধ করেন মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা। এ নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

তবে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী বিজয় রঞ্জন বলেন, ‘সন্ধ্যার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের মসজিদের পাশে ক্রিকেট খেলে। কিন্তু মেডিকেলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এটা মেনে নিতে পারেননি।

গতকাল রাতে যখন ক্রিকেট খেলছিল বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা, তখন মেডিকেলের এক শিক্ষক আমাদের এক শিক্ষার্থীকে ডেকে ধমক দিয়ে কথা বলেন। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হলে মেডিকেলের কয়েক শিক্ষার্থী বশেমুরবিপ্রবির অজয় দেবনাথ, পিয়াল, মুরাদ ও সায়েমকে মারপিট করে। পরে খবর পেয়ে বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা এলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এতে আমাদের অন্তত ১৫ জন আহত হয়।’
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, এখন পরিস্থিতি শান্ত। কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন