default-image

হালদা নদীর হারানো ঐতিহ্য আবার ফিরে এসেছে। নদীটিতে এবার স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি ডিম ছেড়েছে মা মাছ। এটি সম্ভব হয়েছে নদী পারের দুই উপজেলা রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন এবং হালদা পারের বাসিন্দাদের পরিশ্রমের কারণে। দেশের অর্থনীতিতে এই নদীর বিশাল অবদান রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী পরিদর্শন শেষে এক মতবিনিময় সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এসব কথা বলেন।

শ ম রেজাউল করিম আরও বলেন, নদী থেকে বিশুদ্ধ পানি তুলে সরবরাহ করার ক্ষেত্রে মানুষের অধিকার আছে। তবে হালদা থেকে পানি তোলার কারণে নদীর জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, দেশের মূল সম্পদ হচ্ছে মৎস্যসম্পদ। তাই এই সম্পদ রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। এ জন্য নদীকে দূষণমুক্ত করতে বেশ কিছু কলকারখানা বন্ধ করা হয়েছে। নদী শাসন কঠোর করা হয়েছে। মৎস্যজীবীরা যাতে নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারেন, এ জন্য তাঁদের প্রণোদনা ও ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী। বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফোজ, রাউজান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম এহেছানুল হায়দর চৌধুরী, রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোনায়েদ কবির, হাটহাজারীর ইউএনও রুহুল আমিন, রাউজান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পিযুষ প্রভাকর, হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আজাহার উদ্দিন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সরওয়ার মোরশেদ, মোহাম্মাদ মাসুদ প্রমুখ।

এর আগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর মোহনা কালুরঘাট থেকে স্পিডবোটে করে গহিরা সত্তারঘাট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার হালদা নদী পরিদর্শন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ও তাঁর সফর সঙ্গীরা। দুপুরে নদীর পারে রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন মন্ত্রী। সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নদী পারের বাসিন্দা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মন্ত্রী হালদার মা মাছ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের নেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে হালদা পারের মৎস্যজীবীদের জন্য সরকার ঘোষিত প্রণোদনার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের তালিকাভুক্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি।

মন্তব্য পড়ুন 0