হাসপাতালের অন্য রোগীরা অভিযোগ করে বলেন, হীরা তিন দিন ধরে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। বুধবার বিকেলে চিকিৎসক এসে হীরাকে রক্ত পরীক্ষা করার জন্য ব্যবস্থাপত্রে লিখে দেন। সন্ধ্যায় জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি ল্যাব বন্ধ থাকে। এ জন্য বাইরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে রক্ত পরীক্ষা করানোর জন্য দায়িত্বরত নার্স ইলা সিকদারকে সিরিঞ্জে রক্ত টেনে দিতে বলেন রাসেল। এ সময় ইলা রক্ত টেনে দেওয়া তাঁর দায়িত্ব নয় বলে রাসেলের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এতে রাসেল ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে বলেন, ‘সরকারি বেতন খান, রক্ত টানবেন না কেন?’ এরপর ইলা নার্সিং সুপারভাইজারের কাছে রাসেলের নামে নালিশ করেন এবং দেবাশীষ নয়ন (৩২) নামের শহরের খাবাসপুর এলাকার এক যুবককে ফোন করে ডেকে আনেন। এদিকে কিছুক্ষণ পর রাসেল নার্সিং সুপারভাইজারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ওয়ার্ডে তাঁর স্ত্রীর শয্যার পাশে গিয়ে বসেন। ওই সময় দেবাশীষ নয়ন ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দু–তিনজন ওয়ার্ডের মধ্যে ঢুকে রাসেলের বুকে ছুরিকাঘাত করে চলে যান।

আহত রাসেলের স্ত্রী হীরা বলেন, তাঁর শরীরের এক পাশ অবশ। প্রতিদিন দুবার তাঁকে রক্ত পরীক্ষা করাতে হয়।

নার্সিং সুপারভাইজার জহুরা বেগম বলেন, রোগী ও নার্সের সঙ্গে ভুল–বোঝাবুঝি হওয়ার পর সেটা মিটমাট করা হয়। পরে রোগীর ওই স্বজনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় নার্স ইলা জড়িত কি না, সেটা তাঁর জানা নেই।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সাইফুজ্জামান বলেন, রাসেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। এখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মো. ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, ঘটনার পর ইলা সিকদার আত্মগোপন করেছেন। তাঁর স্বামীর মুঠোফোনে কল করে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন