হাসপাতালটির পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইস‌লাম বলেন, গতকাল সোমবার বিকেলে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ওই কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে। শৌচাগারে ভূমিষ্ঠ হওয়া নবজাতকটি কীভাবে শৌচাগারের পাইপের ভেতরে গেল, তাকে কীভাবে জীবন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হলো এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কী করণীয়, এসব জানতেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১১ মের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত ক‌মি‌টির প্রধান অধ্যাপক মু‌জিবুর রহমান তালুকদার দুপুরে বলেন, তাঁরা তদন্তের কাজ শুরু করেছেন। এরই মধ্যে নবজাতকের বাবা ও মায়ের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে যা ঘটেছিল এবং পরে নবজাতক উদ্ধারের যাবতীয় ঘটনা জানতে চাওয়া হয়েছে।

মু‌জিবুর রহমান তালুকদার আরও বলেন, নবজাতক ও তার মা দুজনই এখন সুস্থ। শনিবার থেকে মাকে প্রসূতি ওয়ার্ডে এবং নবজাতকটিকে শিশু ওয়ার্ডে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হলেও আজ মঙ্গলবার শিশুটিকে তার মায়ের কাছে দেওয়া হয়েছে। শিশুটির অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৭। তার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং শরীরের স্বাভাবিক নড়াচড়া ঠিকঠাক আছে। আশা করা যাচ্ছে দুয়েক দিনের মধ্যে মা ও নবজাতককে হাসপাতাল থেকে বাড়ি পাঠানো সম্ভব হবে।

গত শনিবার দুপুরে প্রসববেদনা নিয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলায় প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি হন পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার শেখপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জেলে নেয়ামত উল্লাহর স্ত্রী শিল্পী বেগম। এ সময় প্রসবজনিত জটিলতার কারণে চিকিৎসকেরা শিল্পী বেগমের অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী হাসপাতাল থেকে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। শিল্পী বেগমের স্বামী নেয়ামত উল্লাহ ওই দিন বেলা তিনটার দিকে হাসপাতালের সামনে থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে যান। এ সময় শিল্পী বেগম এক আত্মীয়কে নিয়ে শৌচাগারে যান।

ওই সময়ে শৌচাগারেই শিল্পী বেগমের বাচ্চা প্রসব হয়। পরে শৌচাগারের পাইপের মধ্যে ঢুকে যায় নবজাতকটি। নেয়ামত উল্লাহ ওষুধ নিয়ে ফিরে ঘটনাটি জানতে পারেন এবং দুই তলার শিশু ওয়ার্ডের শৌচাগারের পাইপ ভেঙে নবজাতক মেয়েশিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন